সর্বশেষ সংবাদ :

সান্তাহারে দুই আনা স্বর্ণের লোভে শিশু রাখাকে হত্যা

আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে দুই আনা স্বর্ণালঙ্কারের লোভে সাড়ে ছয় বছর বয়সী শিশু রাখা মুনি হত্যার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাখা মুনি সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার রায়হান উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন শিশু রাখাকে হত্যা করে তার নিজ বাড়ির একটি স্থানে বস্তার ভেতরে লাশ গোপন করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ আমজাদ হোসেনের বাড়ি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাহেবপাড়া এলাকার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) এবং প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকায় ফুফু লিপি আক্তারের কাছে লালন-পালন হচ্ছিল শিশু রাখা মুনির। পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে রাখার মা তার বাবাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র সংসার শুরু করেন। এরপর থেকেই মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিল রাখা। বাবা কর্মসূত্রে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকায় ফুফুর তত্ত্বাবধানেই বেড়ে ওঠে সে। পড়াশোনার জন্য তাকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে অল্প দূরে প্রাইভেট পড়তে যায় রাখা মুনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মহল্লার বিভিন্ন বাড়িতে সন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয় মাদক কারবারি আমজাদের আচরণ ও কথাবার্তায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মুরগির ঘরের ভেতরে একটি বস্তার মধ্যে রাখা মুনির মরদেহ দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে আমজাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ।
নিহত শিশুটির ফুফু লিপি আক্তার জানান, রাখা মুনিকে দুই আনা স্বর্ণ দিয়ে কানের দুল বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা সে নিয়মিত ব্যবহার করত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন ধরে আমজাদ আমাদের কাছে টাকা ধার চাইছিল। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এবং কানের দুলের লোভে সে রাখাকে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানায়।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে সোনার দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো এক নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬ | সময়: ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর