সর্বশেষ সংবাদ :

রাসিক ও রামেকের জনসচেতনমূলক র‌্যালি : এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগিদের মধ্যে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’ শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম নানান উদ্যোগ গ্রাহণ করেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনমূলক র‌্যালি-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় নগর ভবনের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। এরপর মহানগরীর দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জ হয়ে পুনরায় নগর ভবনে চত্বরে গিয়ে র‌্যালিটি শেষ হয়।
র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। র‌্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাসিক প্রশাসক।
এ সময় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ হলেও সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, নিজেদের পরিবার ও প্রিয় নগরীকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাসিক প্রশাসক।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিপূর্বে হাম-রুবেলা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষার আগে মশক নিধনে দুই সপ্তাহব্যাপী ফগার মেশিনে স্প্রে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
র‌্যালিতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, রাসিকের ২৫ ও ২৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিডিসি‘র সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ ও রেড ক্রিসেন্ট ও বিডিক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ হাজার ৭০৫ জনের বেশি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছে ৪০১ জন। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ২১ হাজার ২১৪ জন। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
রামেক: শনিবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। “আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মচারীরা। র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে। ‘ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী’ এবং ‘ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রতি শনিবার অফিস-আদালত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম চলবে। এই কর্মসূচি শুধু শহর বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়েও বিস্তৃত করা হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সচেতনতা সৃষ্টিতে সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ কার্যক্রমে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম। এছাড়াও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।


প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬ | সময়: ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর