বাঘায় হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা !

নুরুজ্জামান, বাঘা :

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মাসে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, আগের মাসের তুলনায় এ মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এসেছে। যদি এ ভাবেই চলতে থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ বিভাগ-সহ সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, গত মাসে যাদের বিদ্যুৎ বিল ছিল তিন হাজার টাকা, এ মাসে তাদের বিল এসেছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার যাদের বিল ছিল আটশো থেকে এক হাজার টাকা, তাদের গুনতে হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

 

গ্রাহকরা অভিযোগ ছুড়ে বলেন , ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের ব্যবহার কম হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করে, অতিরিক্ত বিল আদায় কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের কারসাজি ছাড়া আর কিছু নয়।

এদিকে উপজেলার আমোদপুর গ্রামের হামিদুল ইসলাম জানান, পরপর দুই মাস বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারলে লাইন কেটে দিয়ে মামলার হুমকি দিয়ে যাই বিদুৎ কর্তৃপক্ষ । এ ছাড়াও প্রতি মাসেই কমবেশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হয়। যা এবার লিমিট ক্রস করেছে। তিনি বলেন, শুধু আমি নয়, এই গ্রামের সকল গ্রহকদের বিদ্যুৎ এ মাসে অনেক বাড়তি এসছে। এ বিষয়ে নতুন-সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি ।

এছাড়াও প্রিপেইড ও ডিজিটাল মিটারের বিভিন্ন চার্জ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তারা বলেন, নিজেদের টাকায় মিটার কেনার পরও কেন মিটার চার্জ দিতে হবে, সেটি তাদের বোধগম্য নয়। একইসঙ্গে “ডিমান্ড চার্জ” নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ারও কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তারা। গ্রাহকদের দাবি, ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্য একই রেট নির্ধারণ করা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। তারা মনে করেন, এভাবে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে এলাকার সুশীল সমাজের লোকজনের অভিমত, হঠাৎ বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির ঘটনায় বাঘা উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বেড়ছে। গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত বিল নির্ধারণ প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে এবং অতিরিক্ত বিল সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে অযৌক্তিক চার্জ প্রত্যাহার ও সহনীয় বিদ্যুৎ মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ অতি জরুরী বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বাঘা পল্লী বিদুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের বিগত মাসে বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১২ মেগোয়াট, যা বেড়ে পরবর্তি মাসে চলে এসছে ২৫ মেগোয়াটে । তাঁর মতে, হটাৎ করে গরম চলে আসায় সকলে মানুষ ফ্যান কিংবা এসি ব্যবহার করার কারনে বিদ্যুৎ বিল বেশি এসছে । আবার এমনও হতে পারে, আমাদের লোক ভুল বসত: বেশি লিখছে । যদি কারো এমনটি সন্দেহ হয়, তালে আমাকে অভিযোগ করলে বিষেয়টি তদন্ত করে দেখা হবে ।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬ | সময়: ১২:১৭ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine