সর্বশেষ সংবাদ :

গোদাগাড়ীতে পদ্মার পাড় পরিদর্শনে এমপি মুজিবুর : বর্ষার আগেই ভাঙন রোধে আগাম প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদী তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পৌরসভার ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সারেংপুর, সুলতানগঞ্জ এবং চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
বর্ষা এলেই পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কবলে পড়ে এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। প্রতি বছরই অসংখ্য পরিবার জমি-ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। এই নদীভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি গ্রহণও করেছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বর্তমান অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের শিকার মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে তিনি সরাসরি ধারণা নেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সব সময়ই জামায়াতে ইসলামী রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন, বাঁধ নির্মাণ ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যথাসময়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে চলমান নদী ভাঙন রোধ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজ বর্ষা মৌসুমের আগেই জোরদার করা হবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবাইদুল্লাহ, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক রাফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। তারা সরকারের পক্ষ থেকে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
এদিকে বর্ষা আসার আগেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। ফজলুল করিম নামের এক বাসিন্দা এই বিষয়ে বলেন,“সামনে বর্ষা আসছে। নদীতে পানি বেড়ে গেলে আমাদের এইদিকে ভাঙন শুরু হয়। আজকে এমপি মহোদয় নিজে সরেজমিনে এসে আমাদের কথা শুনেছেন। আশা করছি তিনি নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
একই এলাকার সুমি বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন,“এইবারই প্রথম আমাদের দুঃখ ও কষ্ট দেখার জন্য কোন এমপি আমাদের এলাকায় এসেছেন। আমরা এমপিকে বলেছি আমাদের এখানে যাতে নদী ভাঙন রোধে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন।”
এলাকাবাসীরা মনে করছেন, বর্ষায় নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন। যেগুলো জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে সেগুলোর সর্ব্বোচ মান নিশ্চিতের দাবি।


প্রকাশিত: May 6, 2026 | সময়: 4:28 am | সুমন শেখ

আরও খবর