বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে অনুমোদন ছাড়াই চলতে থাকা দোলপূর্ণিমার মেলা ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে মেলার বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ৩ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও মেলা বন্ধ না করে তা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, মিষ্টান্ন, কসমেটিকস ও কাপড় সহ বিভিন্ন পণ্যের কেনাবেচা চলছিল এবং অবৈধভাবে টোল আদায়ের অভিযোগও ওঠে।
এদিকে অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হলেও মেলা চালু থাকায় স্থানীয়ভাবে সমালোচনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ভিড়ের সুযোগে পকেটমারের উৎপাতও বেড়ে যায়। শাহীন নামের এক দর্শনার্থী অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেল খেলা দেখার সময় তার পকেট থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরি হয়ে যায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ মাইকিং করে মেলা বন্ধ করে দোকানপাট সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে মেলায় কেনাবেচা ও টোল আদায় চলতে থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবিদা খানম বৈশাখীর নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী দোকানপাট, বিনোদন সামগ্রী সহ বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।
হঠাৎ মেলা ভেঙে দেওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে আসা ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে মেলা জমেনি। ঈদের পর বিক্রি বাড়তে শুরু করেছিল, কিন্তু তখনই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেলা ভেঙে দেওয়ায় তেমন লাভ করতে পারিনি।
ঢাকা থেকে আসা কম্বল ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলীও বলেন, অনুমতির সময় বেচাকেনা কম ছিল, পরে জমে উঠলেও মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হবে।
মেলা কমিটির সভাপতি ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর দোকানপাট সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবিদা খানম বৈশাখী বলেন, মেলার অনুমোদন গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো মেলা বা গণসমাবেশ পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয়। জনস্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।