বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী ও নাটোর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বড়াল ও বরনই নদীর পুন:খনন প্রকল্পের ডিজাইন ও অর্থের পরিমাণ অপ্রতুলতা নিয়ে অসন্তোস প্রকাশ করেছেন নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীরা।
তারা বলছেন, সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ দুটি নদী পুণ:খননে সীমিত অর্থ চাহিদা দিয়েছে যা কোনোভাবেই কাজে আসবে না। এ অর্থ বরাদ্ধ সরকারের অপচয় ছাড়া কিছুই না বলে মনে করেন তারা। তারা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া আংশিকভাবে কোনো প্রকল্প দায়সারা বাস্তবায়ন মেনে নেবে না। প্রয়োজনে দুই নদীর নাব্যতা ফেরাতে বৃহত্তর আন্দোলন গতে তোলা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী ও নাটোর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ‘বড়াল নদীর উৎস মুখ থেকে পাবনার আটঘরিয়ার রেগুলেটর পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার অংশ খনন কাজ’ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ৪৮ কোটি টাকা। একই পরিমান অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে রাজশাহীর বারনই পূন:খনন প্রকাল্পেও।
সূত্রমতে বড়াল নদীর প্রকৃত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫২ কিলোমিটার। প্রস্থ ৩০০ ভোটের বেশি। অথচ প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে নদী সংরক্ষণের জন্য খননপ্রস্থ ধরা হয়েছে মাত্র ৩০ ফুট। এছাড়া খনন গভীরতা ধরা হয়েছে তিন থেকে পাঁচ ফুট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর কোনো উপকারে আসবেনা। বরং বরাদ্দ করা পুরো টাকায় জলে পড়বে।
পরিবেশ আন্দোলন নেতা ও সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, বড়ালের পরিপূর্ণ নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন প্রকৃত দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বিবেচনায় খনন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। আংশিক বা খন্ড খন্ড খনন কাজ করলে শুধুই অর্থের অপচয় হবে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ ব্যয় করার অধিকার কারো নেই। তারপরেও যদি সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তাহলে তা জনকল্যাণে কোন উপকারে আসবে না, বরং নদী দুষণ আরো মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নদী দুটি সংস্করে দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন করে আসছেন। এর পরেও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পূর্ণ প্রকল্প ছাড়া আংশিকভাবে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সচেতন মানুষ ও পরিবেশবাদীরা কোনভাবে তা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে বড়াল ও বারনই নদের নাব্যতা ফেরাতে ও পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহী অঞ্চলের সচেতন মানুষ ও পরিবেশবাদীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন হয় নি। তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পিইসি মিটিংয়ে বড়াল ও বরনই নদীর পুন:খনন প্রকল্প দুটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।