বাছুরসহ গাভী জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ, পা কাটা মরা বাছুর উদ্ধার

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর অর্থনৈতিক জোন খ্যাত মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজারের গরুর মাংসের কালাভুনা ভোজন রসিকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এবাজারে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, জরাজীর্ণ, রোগাক্রান্ত, গাভী গরু মাংস বিক্রয় করে আসছে। এই মাংসগুলো এখানকার স্থানীয় হোটেল মালিকরা কম দামে কিনে ভোজন রসিকদের নিয়মিত খাইয়ে আসছেন।
যদিও দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ বরাবরই রয়েছে এ বাজারের মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি কেশরহাটে বাছুর সহ গাভী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ আরো বেগতিক আকার ধারন করেছে।
শনিবার ১০ জানুয়ারি সকালে জবাই করা গরুর বাছুরের লাশ মিলেছে মাছ বাজারের ভাগাড়ে। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী সহ সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার ভোরে এ বাজারের তিনটি কসাই খানায় মোট ছয়টি গরু জবাই করা হয়েছে। এ ছয়টি গরুর একটির পেটে বাছুর রেখেই জবাই করা হয়। তবে যেহেতু তিন কসাইখানার কেউ গরু জবাই করার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেননি সেহুতু কোন কসাইখানার গরু এটি তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন অনেকটাই নড়েচড়ে বসেছে। তৎক্ষণাৎ কেশরহাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কয়েকটি হোটেলে জরিমানা করা হয়।
এদিকে, এর আগেও এই বাজারে কাদের কসাই ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ আক্রান্ত গাভি গরু জবাই করে হোটেল ব্যবসায়ী সহ জনসাধারণের কাছে বিক্রি করেন।
স্থানীয়রা জানান, জবাই করা গরুর গর্ভ থেকে বের হওয়া বাচ্চাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাংস হাটে নিয়ে আসলে হৈ চৈ শুরু হলে উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। তার আগেই গরুর মাংসগুলি বিক্রি করে দেন স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল সহ জনসাধারণের কাছে।
জানা গেছে, কেশরহাটে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন মুকুল, কাদের, বাচ্চু নামের তিন কসাই। শনিবার হাটবার হওয়ায় ভাগাড় থেকে মরা পা বিহীন বাছুরটি উদ্ধার হওয়ার আগেই মাংস বিক্রি করে তারা চম্পট দেয়। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে মরা বাছুরটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর আসাদুল ইসলাম জানান, আজকে তিনি কেশরহাটে যাননি। তবে স্থানীয়রা বলছেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের যোগ সাজসোই এই অসাধু চক্র ব্যবসা করে আসছেন।
মোহনপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন জানান, ঘটনাস্থল থেকে গাভি গরুর মেরে ফেলা বাচ্চাটি উদ্ধার করে উপজেলা সুরতহাল রিপোর্টের জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ জানান, অফিস থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে কেশরহাট পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা জানান, বিষয়টি অলরেডি জেনেছি। যে বা যারা এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬ | সময়: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ