বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদের সঙ্গে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সভায় রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সভায় এডিটরস ফোরামের সভাপতি ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, সহ-সভাপতি ও আমাদের রাজশাহী পত্রিকার সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহীর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, কোষাধ্যক্ষ ও সানশাইন পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও গণধ্বনি প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াকুব সিকদার, নির্বাহী সদস্য ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ও নতুন প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. বজলুর রশীদ রাজশাহীর উন্নয়ন, জনসেবামূলক কার্যক্রম, প্রশাসনের চলমান সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন,“রাজশাহী একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যে অগ্রগতিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। এই বিষয়গুলো চিহ্নিত করে আমি কাজ করতে চাই। গণমাধ্যম হলো উন্নয়নের সহযোগী শক্তি। সঠিক তথ্য তুলে ধরে ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সাংবাদিকরা প্রশাসনকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হয়। দুর্বলতা চিহ্নিত করা, জনগণের সমস্যা তুলে ধরা ও বাস্তবসম্মত সমাধানে সহযোগিতা করা-এসব ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীর উন্নয়ন অগ্রাধিকার, নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক দুর্ভোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজশাহী বিভাগ দেশের উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকবে এবং এ অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যম হবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
এডিটরস ফোরামের সদস্যবৃন্দ রাজশাহীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর উন্নয়ন, অবিচার, দুর্নীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নাগরিক ইস্যুগুলো তুলে ধরছেন। সঠিক তথ্যপ্রবাহ ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে। রাজশাহীর সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় হলে উন্নয়নের গতি বাড়বে।
এডিটরস ফোরামের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, রাজশাহীকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গণমাধ্যম সবসময় প্রশাসনের পাশে থাকবে। স্থানীয় পত্রিকাগুলোর টিকে থাকার সংকট, বিজ্ঞাপন নীতি, সরকারি তথ্যপ্রাপ্তির সহজীকরণ ও সাংবাদিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরে সমাধানের আহ্বান জানান তারা। রাজশাহীর প্রকৃত সমস্যা ও সম্ভাবনা দেশের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে স্থানীয় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও উন্মুক্ততা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রশাসন ও সাংবাদিকতা দুই পক্ষ মিলেই জনস্বার্থের বিষয়গুলো শক্তভাবে সামনে আনুক। এতে নাগরিক সেবা যেমন বাড়বে, তেমনি উন্নয়ন হবে আরও স্বচ্ছ ও টেকসই।
অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি, সড়ক নিরাপত্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন বিষয়ে মতামত দেন সম্পাদকবৃন্দ।