সর্বশেষ সংবাদ :

বন্ধ ইটভাটা চালু রাখার দাবী মালিক শ্রমিকদের: কাজ দে, নয় তো ভাত দে

স্টাফ রিপোর্টার: বন্ধ ইট ভাটা চালুর দাবীতে নওগাঁ, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর এবং আত্রাই উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। তাঁরা বন্ধ করে দেওয়া ইটভাটা চালু রাখার দাবী জানান। প্রশাসনকে তাঁরা দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে। সানশাইন প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
মহাদেবপুর: মহাদেবপুরে বন্ধ ইট ভাটা চালুর দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি মহাদেবপুরের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ইট ভাটা মালিক শ্রমিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে শ্রমিকরা শ্লোগান দেয় ইট ভাটা বন্ধ কেন প্রশাসন জবাব চাই, হয় কাজ দে নয় তো ভাত দে সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
শ্রমিকরা বলেন এ উপজেলায় ইট ভাটার সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে। ভাটা বন্ধ থাকলে এ সব শ্রমিকদের অনাহারে থাকতে হবে। সমাবেশে শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোহেল রানা, উত্তম কুমার, মাসুদ রানা, মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তোফাজ্জল হোসেন, আলমগীর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে এসব ইট ভাটা চালুর দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। গত ৭ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর উপজেলার প্রায় ১১টি ইট ভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়।
নওগাঁ: পরিবেশের ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটা বন্ধের প্রতিবাদে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ইট প্রস্তুতকারী ভাটা মালিক ও শ্রমিকেরা। দুপুরে ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে ইটভাটা চালু রাখার দাবিতে ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাববর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির উদ্যোগে নওগাঁ শহরের সিও বাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূর-ই আলম মিঠু, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সাজেদুর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল আলম গোল্ডেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ভাটা মালিকেরা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও প্রায় ১০ বছর ধরে ইটভাটাগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশের ছাড়পত্র নবায়ন করা হচ্ছে না। নাবয়নের আবেদন দেওয়া সত্ত্বেও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না।
এরপরও গত বছরগুলোতে ভাটা মালিকেরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁদের ভাটায় ইট প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশের ছাড়পত্র নেই এমন ভাটাগুলোতে ভাটা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে একযোগে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হলে ভাটা মালিক ও সেগুলোতে কর্মরত শ্রমিকেরা বিপাকে পড়ে যাবেন। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় রেখে চলতি মৌসুমে ইট পোড়ানো অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান ভাটা মালিক ও শ্রমিকেরা।
নওগাঁ জেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর-ই আলম বলেন, ‘নওগাঁতে বর্তমানে ১৩০টির মতো ইটভাটা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩টির পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। বাকিরা সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের পর থেকে পরিবেশের ছাড়পত্র পায়নি। একেকটি ইটভাটায় কমপক্ষে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়া প্রতিটি ইটভাটার মালিক চলতি মৌসুমে ইট উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যে ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিযোগ করে ফেলেছেন। নওগাঁয় ১০০টির বেশি ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। চলতি মৌসুমে এসব ভাটায় ইট পোড়ানো না হলে এর মালিক এবং এসব ভাটায় কর্মরত শ্রমিকেরা পথে বসবে। নওগাঁর সকল ইটভাটা চালু রাখার জন্য বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নিয়ামতপুর: ‎নওগাঁর নিয়ামতপুরে ইটভাটা চালু রাখার দাবিতে মালিক ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা চত্বর এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।‎
‎মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা বিপন্ন হবে। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ইটভাটা শিল্প এটি বন্ধ হয়ে গেলে বহু পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়বে। সরকার যদি যথাসময়ে অনুমোদন না দেয়, তাহলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে।‎
‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দেশ বিকস্ ইটভাটার মালিক মোসাদ্দেক হোসেন, স্টার হাওয়া ইটভাটার মালিক মদিন, আঁখি ব্রিকসের মালিক আঞ্জুমান পাভেল, তিন ভাই ব্রিকসের মালিক রেজাউল ইসলাম সহ শ্রমিকরা ।
‎বক্তারা দ্রুত ইটভাটা চালুর অনুমোদন প্রদানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে শীত মৌসুমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে শ্রমিকরা আবারও জীবিকার চাকা ঘুরাতে পারেন।
আত্রাই: চলতি মৌসুমে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের সরকারি নির্দেশনার পর, কাজ হারানোর আশঙ্কায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মানববন্ধন করেছে ইটভাটা শ্রমিক ও মালিক সমিতি। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ ও হাজারো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে বেলা সাড়ে ১১ টায় ইটভাটা মালিক সমিতির সদস্য আশাদুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।
ইটভাটা মালিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় কর্মরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন। মানববন্ধনে শ্রমিকরা ইটভাটা বন্ধ না করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। মানববন্ধন শেষে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে আলম সিদ্দিক বরাবর ইটভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
তারা চলতি মৌসুমের ইটভাটা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করেছে। এই অর্থ ইট প্রস্তুতের কাঁচামাল, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও জমি ভাড়াসহ প্রাথমিক প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হয়েছে। তারা জানান, ইতিমধ্যে প্রশাসনের নির্দেশে তাদের ইটভাটার কাগজপত্র ও লাইসেন্স পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
যদি এই মুহূর্তে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব হবে এবং লক্ষ লক্ষ টাকার কাঁচামাল নষ্ট হবে। ইটভাটা বন্ধ হলে গ্রামের বিশাল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়বে। বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই শিল্প বন্ধ হলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও সমিতির পক্ষ থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে চলতি মৌসুমে ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের জন্য জোর আবেদন জানানো হয়েছে।
আত্রাই ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়ামতলী বাবু বলেন, আমরা সরকারের সকল আইন মেনে ইটভাটা চালাতে বদ্ধপরিকর। যদি কোনো ইটভাটা নিয়ম অমান্য করে, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু ঢালাওভাবে ইটভাটা বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে, যা তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের মতো সাধারণ মালিক এবং শ্রমিকদের কথা ভাবা উচিত। আমরা চাই সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে চলতি মৌসুমের জন্য ভাটা পরিচালনার অনুমতি দিক, যাতে আমরা আমাদের ঋণের বোঝা মেটাতে পারি এবং শ্রমিকরা কাজ না হারায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, আত্রাই ইটভাটা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মীর সামসুল হুদা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল মিঠু, সদস্য নাজমুজ্জামান ভূট্টো, সদস্য শহিদুল ইসলাম শহিদ প্রমুখ। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপির বিষয়টি বিবেচনা করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।


প্রকাশিত: November 13, 2025 | সময়: 5:08 am | সুমন শেখ