, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও তারতম্য দেখা দিয়েছে। একদিকে সবজি, ফল ও মাছের বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমছে, অন্যদিকে কিছু পণ্য এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত মাসের তুলনায় রাজশাহীর বাজারে লাউ, ঝিঙ্গা, কচু ও কাঁচা কলার দাম কিছুটা কমেছে। আগে যেখানে লাউ বিক্রি হতো ৬০ টাকা পিস, সেখানে বর্তমানে মিলছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। একইভাবে ঝিঙ্গার দাম আগে ৫০ থেকে ৮০ টাকা থাকলেও এখন নেমে এসেছে ৩৫-৪০ টাকায়। কাঁচা কলা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়, যা অনেকটা সহনীয় মনে করছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে বেগুনের দাম গত মাসে ছিল ৬০ থেকে ১০০ টাকা, এখন কিছুটা কমে ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পটলের দামও ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে শসার দাম তেমন পরিবর্তন হয়নি, আগের মতোই ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটো বাজারে এখনও সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত মাসে টমেটোর কেজি ছিল ১৬০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১৭০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে ফুলকপি গত সপ্তাহে ১৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, যা অনেকের নাগালের বাইরে। বরবটি এখনও ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও ১৪০-১৫০ টাকায় ঘোরাফেরা করছে।
পেঁয়াজের দামে সামান্য স্বস্তি এসেছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৭০-৮০ টাকায়, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। রসুনও কিছুটা কমেছে—আগে ছিল ১৬০ টাকা পর্যন্ত, এখন তা নেমে এসেছে ১১০-১২০ টাকায়। তবে আদার বাজার এখনও চড়া। আগে মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, বর্তমানে মিলছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। ফলমূলের মধ্যে পেঁপে সবচেয়ে সস্তা, আগে ছিল ৩০ টাকা কেজি, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২০ টাকায়। আলুর দামও স্থিতিশীল, কেজি প্রতি ২০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীর বাজারে মাছের মধ্যে ইলিশের দাম এখনও নাগালের বাইরে। আকারভেদে ইলিশ মিলছে ৭০০ থেকে ২২০০ টাকায়। দামি হওয়ায় অনেকেই ইলিশের দিকে তাকিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। কথা হয় সাহেববাজারে সবজি কিনতে আসা শিক্ষক রুবেল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, লাউ, ঝিঙ্গা আর কলার দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে মরিচ, টমেটো, আদা আর মাছের বাজার এখনও অসহনীয়। অন্যদিকে গৃহিণী শামসুন্নাহার বলেন, পেঁয়াজ আর রসুনের দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও টমেটো আর ফুলকপি কেনা এখন অনেকের জন্যই বিলাসিতা।