বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
রানা হামিদ, বদলগাছী :
নওগাঁর বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাম্প্রতিক কার্যক্রম এলাকাবাসীর হাসির খোরাক যোগাচ্ছে। গত ২৯ জুন তারিখে কলেজে দুই জন শিক্ষক নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করেন। তাদের দুজনকেই অধ্যক্ষর টেবিলে দুটি চেয়ার নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
১৯৯৫সালে বদলগাছী সাধারণ গ্রন্থাগারে বদলগাছী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মরহুম মতিয়ার রহমান চৌধুরী, এস. এম জাকিতুল্যাহ, স.ম. ফজলুল হক বাচ্চু, দেওয়ান মফিদুর রহমান, মজিবর রহমান, অধ্যাপক ওয়াহেদ, রঞ্জু চৌধুরী, আলী হাসান চেয়ারম্যান, সোলায়মান চেয়ারম্যান ও তপন কুমার মন্ডল। কলেজের প্রাথমিক কার্যক্রম বদলগাছী সাধারণ গ্রন্থাগারে শুরু হয়। মতিয়ার রহমান চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এস. এম. জাকিতুল্যাহকে সেক্রেটারি মনোনিত করা হয়।
১৯৯৫সালের ৫ সেপ্টেম্বর কলেজের প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। প্রথম নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন তৎকালীন ইউএনও সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, অধ্যাপক ফণীন্দ্র কুমার বসাক, অধ্যাপক ওয়াহেদ, এস. এম. জাকিতুল্যাহ ও মজিবর রহমান। নিয়োগ কার্যক্রম হয় বদলগাছী সাধারণ গ্রন্থাগারে। সাবেক অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বর্তমান কলেজের জায়গাটি চৈতন পাহান ও ভাকু পাহানের সাথে নিজের জমি বিনিময় করে কলেজকে দানপত্র করে দেন। নওগাঁ সরকারি কলেজের তৎকালীন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ইমরুল কায়েস চৌধুরী বিনা পারিশ্রমিকে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতেন। এভাবেই নানান পর্যায়ের মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বদলগাছী মহিলা কলেজ। যার বর্তমান নাম বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজ।
কালেজটিতে বর্তমানে কালেজ শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪০০ জন, ডিগ্রি শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১০০ জন এবং অনার্স শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১১০ জন।
দীর্ঘদিন থেকেই কলেজটি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জর্জরিত। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ডিগ্রি শাখার নিয়োগপ্রাপ্ত বেতন না হওয়া শিক্ষকবৃন্দ। কারণ তার ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের ৫ তারিখে চাকরি শেষ হবে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষকদের দাবি বিল বেতন করে দেওয়ার শর্তে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ তা ফেরত দিতে পারেননি। ৫ ডিসেম্বরের পর তাকে আর ধরা যাবে না। পরে অধ্যক্ষ ৪৯ লাখ টাকার চেক দিয়ে সেদিনের মত চলে যান। পরে তৎকালীন এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদারের হস্তক্ষেপে ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয়।
২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান মো. মাহবুব আলম। সাম্প্রতিক সময়ের সকল ঘটনার সূত্রপাত এদিন থেকেই। তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা না হলেও ঝামেলা শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। মাহবুব আলম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর। কথিত আছে তিনি নিজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের যোগ্যতার হেরফের করেন। এবং পরবর্তীতে দায় এড়াতে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ২০২২ সালের আগস্টের ১৭ তারিখ থেকে অক্টোবরের ২৬ তারিখ পর্যন্ত উম্মে হাবিবা খাতুনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেখান। ৯ অক্টোবর, ২০২৩ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মমতাজ জাহান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) মাহবুব আলমের অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ১৩ তম শিক্ষক প্রভাষক মাহবুব আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিধি বহির্ভূতভাবে নিজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে কঠোর গোপনীয়তার মাঝে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি প্রদান না করে এবং অভিজ্ঞতার জাল জালিয়াতির কাগজ সৃজন করে এবং নৈতিকতার স্খলন ঘটিয়ে তিনি নিজেকে অধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর মাউশি থেকে তদন্ত টিম কলেজে আসেন। তদন্তকারী টিম তদন্ত শেষে মমতাজ জাহান যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেন সেসকল বিষয়ে সত্যতা পান এবং তদন্তকারী টিম ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে লিখিত মতামত প্রদান করেন। সেখানে বলা হয়, প্রথমত, মো. মাহবুব আলম বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজের শূন্য পদে অধ্যক্ষ নিয়োগ কালীন তিনি নিজেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মোসা. উম্মে হাবিবা খাতুনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, জনবল কাঠামো-২০২১ মোতাবেক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভের জন্য বারো বছরের প্রভাষক পদে চাকুরীর অভিজ্ঞতা, তিন বছরের সহকারী অধ্যাপক অথবা তিন বছরের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকার বিধান থাকলেও মাহবুব আলমের মাত্র এগারো মাসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের অভিজ্ঞতা রয়েছে যা কাম্য অভিজ্ঞতা নয়। তৃতীয়ত, অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশিষ্ট উপজেলার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ডে থাকার কথা কিন্তু তা না করে পার্শ্ববর্তী নজিপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই থেকে অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের বেতন বন্ধ হয়ে যায়।
জুলাই বিপ্লবের পর বদলগাছী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ইউএনও ও বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুব হাসান ২৭ আগস্ট কলেজ অধ্যক্ষ মাহবুব আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঐ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মমতাজ জাহানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
একই বছরের ২৭ অক্টোবর মো. লুৎফর রহমানকে কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দেয়। ২০২৫ সাালের ৭মে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মো. লুৎফর রহমানের নাম পরিবর্তন করে মো. ফজলে হুদাকে সভাপতির মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরের দিন অর্থাৎ ৮মে মো. মাহবুব আলমকে পুনরায় অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন ফজলে হুদা।
এরপর সহকারি অধ্যাপক মমতাজ জাহান হাইকোর্টে ফজলে হুদা এবং মাহবুব আলমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে রিট করেন। হাইকোর্ট ২ জুন ফজলে হুদা বাবুলের সভাপতি পদ স্থগিত ঘোষণা করে একটি আদেশ দেন। এবং মমতাজ জাহানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেশ করতে বলেন। তবে কোর্টের কোনো আদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছায়নি।
উল্লেখ্য, ৭ জুন ২০২৫ তারিখে সহকারি অধ্যাপক মমতাজ জাহান মৃত্যুবরণ করেন।
কোর্টের আদেশ বলে ২৫ জুন পূর্বের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের যোগদানের আদেশ বাতিল করে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. ইমামুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
এদিকে ২৬ মে ২০২৫ তারিখে কলেজের এডহক কমিটির(ফজলে হুদা) মেয়াদ ১১ জুন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাহবুব আলম বলেন, আমার অধ্যক্ষ নিয়োগের সময় আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলাম না। তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন উম্মে হাবিবা খাতুন। উম্মে হাবিবা খাতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে উম্মে হাবিবা খাতুন সেটিকে ভূয়া, ভিত্তিহীন বলে জানান। তবে অধ্যক্ষ মাহবুব আলম তদন্ত কমিটিকে উম্মে হাবিবা খাতুনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের কোনো প্রমাণাদি তদন্ত কমিটিকে দেখাতে পারেননি তা স্বীকার করে বলেছেন, তরিঘরিতে নিয়োগের রেজুলেশনটি দেখাতে ভুলে গিয়েছি,ওনারা ওটায় লিখে দিয়েছেন। কিন্তু বৈধ ভাবেই উম্মে হাবিবা খাতুনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ হয়েছে।
তিন বছরের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নিয়োগের বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, এজন্য আমার বেতন আমি নিইনি। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমি বেতন নিব।
সংশ্লিষ্ট উপজেলার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে নিয়োগ বোর্ডে না নেওয়ার বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, বদলগাছী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সরওয়ারে জাহান তার ভগ্নিপতিকে এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন অথবা পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তাই তাঁকে নেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে নওগাঁ সরকারি কলেজ বা মহিলা কলেজ নিলেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নওগাঁ কলেজের অধ্যক্ষ আর নজিপুর কলেজের অধ্যক্ষ একই গ্রেড। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই।
এ বিষয়ে বদলগাছী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সরওয়ারে জাহান বলেন, বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজে মাহবুব আলমকে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার যোগ্যতা না থাকার কারণে আমি সেটা নাকচ করে দেই। টাকা পয়সা লেনদেনের কোনো কথাই হয়নি।
বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষের চেয়ারে মাহবুব আলম বসা। তার পেছনের দেয়ালের লাগানো অধ্যক্ষদের নামের তালিকা থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহকারি অধ্যাপক মমতাজ জাহানের নাম তুলে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাহবুব আলম বলেন, তৎকালীন ইউএনও মাহবুব হাসান আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। আর তখন আমি অসুস্থতার ছুটিতে ছিলাম। সুতরাং মমতাজ জাহানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই। সেজন্য তার নাম তুলে ফেলা হয়েছে।
এদিকে মাহবুব আলম অভিযোগ করে বলেন, মমতাজ জাহান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তিনি অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাক্ত হয়েছেন। তিনি এবং এডহক কমিটির পূর্বের সভাপতি আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা কলেজের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করেছেন, সভাপতি নিজের নামে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। যার কোনো হিসেব বা রেজুলেশন কোনো কিছুই নেই। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলতি বছরের ৯ এপ্রিল সভাপতি লুৎফর রহমানকে চিঠি মারফত অবহিত করেছিলেন যে সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মমতাজ জাহানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি পরিপন্থি। কিন্তু সভাপতি সাহেব কর্ণপাত করেননি। মাহবুব আরো জানান, তৎকালীন সভাপতি লুৎফর রহমানকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়ে বলেছিল, আমাকে যেন বেতনের ৫০% জীবনধারণভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু তিনি তা করেন নি।
পূর্বের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, আওয়ামীলীগের এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার এবং তৎকালীন সভাপতি এম জামান পিন্টু সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অযোগ্য প্রার্থী মাহবুব আলমকে নিয়োগ দিয়েছিল। যার ফলে আওয়ামীলীগ আমলেই তার এমপিও বাতিল হয়ে যায়।
এমপিও বাতিল হওয়ার কিছুদিন পরই তৎকালীন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান তাকে বরখাস্ত করেন। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দিয়েছে তার সবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কালেজ ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলনের আমি কেউ নয়। আমার শুধু স্বাক্ষর দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। আর আমার সময়ে যেসব টাকা উত্তোলন করা হরেছে, তার হিসাব রয়েছে। তারা কেউ দেখতে চাইলে দেখানো যাবে।
মো. ইমামুল হোসেনকে কিভাবে নিয়োগ দিলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু কোর্টের আদেশে ফজলে হুদার কমিটি স্থগিত। সুতরাং আমিই এখন সভাপতি। আমার গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ইমামুল হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছি।
লুৎফর রহমান কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইমামুল হোসেন বলেন, কোর্টের আদেশে ফজলে হুদার কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। সুতরাং তার কোন নিয়োগ বৈধ হবার সুযোগ নেই। মাহবুব আলমের নিয়োগও সেক্ষেত্রে অবৈধ। বৈধ সভাপতি হিসেবে লুৎফর সাহেবের গভর্র্র্নিং বডি আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমিই বৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
এ বিষয়ে বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কালেজের সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিশৃঙ্খলা নিরসনের জন্য আমি সভাপতি হওয়ার জন্য রাজি হয়েছি এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। কোর্টের রায়ের কোনো কাগজ আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। কোর্টের রায় তো অবশ্যই মানতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, কলেজ কমিটি বা অধ্যক্ষ নিয়োগ বিষয়ে আমার কোনো কিছু করার নেই। এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। তবে আইন-শৃঙ্খলার কোনো অবনতি হলে সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।
রানা হামিদ/শামি