, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী ও নওগাঁয় নির্বাচন অফিসে নাগরিক সেবায় ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার রাজশাহী ও নওগাঁ নির্বাচন অফিসে এ অভিযান চালানো হয়।
নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি, ভোটার তালিকায় নাম স্থানান্তরসহ নানা সেবা নিতে গিয়ে রাজশাহী নির্বাচন অফিসে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে- এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে রাজশাহী জেলা নির্বাচন অফিসে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে নির্বাচন অফিসে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে নগদ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মেলে।
দুদকের রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমীর হোসেন বলেন, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে নগদ টাকা নেওয়ার দুটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। যারা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করছে, তারা নতুন এনআইডি, ভোটার স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২৩০ টাকা করে নিচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে দুদুক কমিশনে লিখিত প্রতিবেদন পাঠাবো।”
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বোয়ালিয়া থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের অফিসে কেউ হয়রানির শিকার হন না, আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নেই না। তবে পাসপোর্টের জন্য এনআইডি যাচাইয়ের কাজ অহেতুক আমাদের কাছে পাঠানো হয়। তখন বাইরে আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা কিছু লোক দু’একশ টাকা নেয়। পাসপোর্ট অফিস চাইলে নিজেরাই এনআইডি যাচাই করতে পারে, সেটা না করে কেন আমাদের কাছে পাঠায়, বুঝতে পারি না।”
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, “দুদক যখন অফিসে আসে, আমি তখন একটি মিটিংয়ে ছিলাম। তাই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না।”
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে গিয়ে শুধু সময় নষ্ট নয়, অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ সময়মতো হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে বাধ্য হন তারা।
দুদকের এই অভিযান নির্বাচন অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এ ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, সংগ্রহ, এলাকা স্থানান্তর, আর্থিক লেনদেন ও সেবা প্রত্যাশিদের হয়রানি অভিযোগে নওগাঁয় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুপুরে দুদকের একটি দল এ অভিযানে যায়। এসময় তারা টাকা নগদ টাকা লেনদেনের প্রমান পায়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় নওগাঁর উপ-সহকারী পরিচালক মেহবুবা খাতুন রিতা জানান, সেবা প্রত্যাশিতদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে প্রথমে ছদ্মবেশে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রবেশ করা হয়।
এসময় প্রত্যেক সেবা প্রত্যাশিদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায়। এই অফিসে নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই। কিন্তু তারা নগদ টাকা লেনদেন ও প্রত্যেক সেবা প্রত্যাশিদেও কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ হিসেবে ১০০ টাকা নিচ্ছে।
মেহবুবা খাতুন রিতা বলেন, পরবর্তীতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ডেকে এনে সরেজমিনে এমন কর্মকান্ড দেখানো হয়। পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
টাকা লেনদেনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি দাবী করে জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, নির্বাচন অফিসে সরাসরি নগদ টাকা লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। এনআইডির ক্ষেত্রে যে ফি নির্ধারণ করা আছে, অনলাইন ব্যাংকি বা চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে অফিসে আসতে হয়।