সর্বশেষ সংবাদ :

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকীতে আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার: স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৫টায় রাজশাহীর শাহমখদুম ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে “গণঅভ্যুত্থান ২৪ চেতনা পরিষদ, রাজশাহী”। আবেগঘন এ অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভিন্ন পর্যায়ের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী, ছাত্রনেতা, গবেষক ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নদী গবেষক ও সমাজকর্মী মাহবুব সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসউদ, রাজশাহী ড্যাবের সভাপতি ড. ওয়াসিম, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. নাজিব ওয়াদুদ, ছাত্র সমন্বয়ক মেশকাত মিশু, রাজশাহী বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, জাদুঘরের কর্মকর্তা আসলাম রেজা, সাংবাদিক সোহেল মাহবুব সহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দেন। তার ঘোষণার মাধ্যমে জাতির মুক্তির সংগ্রাম নতুন গতি পায়। তিনি শুধু একজন বীর সেনানী নন, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ছিল জাতীয়তাবাদ, আত্মনির্ভরতা ও ইসলামী মূল্যবোধে ভিত্তি করে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণ। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বিকাশের নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। তার শাসনামলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় যে উন্নয়নের সূচনা হয়, তা আজও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ভারতের একতরফা আধিপত্যবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছিলেন। তার পররাষ্ট্রনীতি ছিল ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ, নিয়মশৃঙ্খলার প্রতীক এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতেন, যা আজকের রাজনীতিতে বিরল।
সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান তুলে ধরার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শহীদ জিয়ার সংগ্রামী ও সাহসী জীবন থেকে আমরা আজও শিখতে পারি কীভাবে সংকটে দৃঢ়তা এবং দূরদর্শিতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে হয়।


প্রকাশিত: June 1, 2025 | সময়: 3:04 am | সুমন শেখ

আরও খবর