নাক ফজলি আমে জিআই স্বীকৃতি পেলো বদলগাছী

রানা হামিদ, বদলগাছী: আমের রাজধানী এখন নওগাঁ। প্রতি বছরই ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে আম চাষ। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার নাক ফজলি আমকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে আম চাষে এ এলাকার মানুষ আরো বেশি উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলায় নাক ফজলি, বারি আম ৪, ১০, ১১, লক্ষণভোগ, গোপালভোগ, মোহনভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো, রানী পছন্দ, কুমরাজালি, হাঁড়িভাঙ্গা, গৌড়মতি, কাটিমন সহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রকার আম চাষাবাদ হয়। তবে লাভজনক ও স্বাদে গুণে অনন্য হওয়ার কারণে নাক ফজলি আমের চাষ বেশি হয়। সাধারণত পলি দোআঁশ মাটি এবং শীলাবৃষ্টি মুক্ত আবহাওয়া আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। নাক ফজলির জিআই স্বীকৃতির জন্য অনেকদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছিল বদলগাছী উপজেলাবাসী।
কৃষিদপ্তর আরো জানায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ উপজেলায় ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। চলতি মওসুমে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নাক ফজলি আম চাষ হবে প্রায় ২৫৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ হাজার মেট্রিকটন। গত অর্থবছরে শুধু নাক ফজলি আমে ১৫-২০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। এবছর নাক ফজলিতে ১৮-২০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ মওসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আম সংগ্রহের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে ২২ মে থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হবে। স্থানীয় গুটি আম আগামী ২২ মে, নাক ফজলি আম ৫ জুন, আম্রপালি আম ১৮ জুন এবং বারি-৪ আম ১০ জুলাই থেকে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হবে।
সদর ইউপির সোহাসা গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আমের ফলন কিছুটা কম। আমি দুই বিঘা জমিতে আম চাষ করি। এবারে আমার পরিচর্চারও কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে যে পরিমাণ আম আছে তাতে খুব বেশি লাভ না হলেও লস হবে না।
কাদিবাড়ী গ্রামের সাগর হোসেন বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছি। নাক ফজলি ও বারি-৪ আম এই দুই প্রকারের আম গাছ আছে আমার। শুরু থেকেই নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্চা করেছি। নাক ফজলি আমের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বারি-৪ আমে এ বছর আমি ফলন নিইনি। শুধু নাক ফজলি আম দুই লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, এ উপজেলার আবহাওয়া এবং মাটি আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। স্বাদ ও গুণের কারণে এই এলাকার আমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নাক ফজলি আমের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। সম্প্রতি নাক ফজলি আমটি জিআই তালিকাভুক্ত হওয়ায় সারাদেশে এর পরিচিতি আরও বাড়বে এবং এর সুফল আমচাষীরাও ভোগ করবে বলে আমি আশা করি।
আমের মুকুল যখন আসে তখন একটা ঝড় হয়েছিল। এর কিছুটা প্রভাব পড়লেও সার্বিকভাবে আমের ফলন ভালো হয়েছে। এবছরও আম চাষীরা ভালো দাম পাবে বলে আশা করি।


প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৫ | সময়: ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ