, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ভারত-পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে চলছে গোলাগুলি। তখন ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলাও চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অতিরিক্ত টহল জারি করেছে। বুধবার রাতে গোদাগাড়ী ও চারঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে চার অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
বিজিবির একাধিক সূত্র জানায়, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কৃষিকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিকেলের পর পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, যাত্রী পারাপার ও চর এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহসহ সীমান্ত এলাকার মসজিদগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। একা একা মাঠে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও দলবদ্ধভাবে চলাফেরা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর নদীতে নামা, নৌকা চলাচল ও চরে অবস্থানেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, “বিজিবির পক্ষ থেকে মসজিদে মাইকিং করে বলা হয়েছে, সকাল ৮টার পর মাঠে যেতে হবে এবং বিকেল ৫টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে। বহিরাগতদের চরে অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সোহেল রানা নামের একজন বলেন, “বিজিবির এ উদ্যোগ ভালো। এখন আর কেউ সীমান্তের কাছে যাচ্ছেন না। চলাচলও অনেক কমে গেছে।”
বিজিবির রাজশাহী-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও সংস্থার দুজন কর্মকর্তা জানান, আটক চারজনের মধ্যে দুইজন গোদাগাড়ী সীমান্ত এবং দুইজন চারঘাট সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন। পরে তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সতর্কতা জারি রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি।
রাজশাহী জেলার সঙ্গে ভারতের ৭৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে বিজিবি।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে টহল জোরদারসহ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। টহলের পাশাপশি সীমান্তে বাসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা বৃৃদ্ধিতেও কাজ করছে বিজিবি। তাদের বোঝানো হচ্ছে সীমান্তে বহিরাগত কাউকে দেখলে যেন দ্রুত বিজিবিকে খবর দেয়া হয়, তাহলে বিজিবি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এই প্রসঙ্গে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ৫৯বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, সীমান্তে চোরাচালন প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে।