বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: মেহেদী হাসান মিরাজ বহুবার বলেছেন, সাকিব আল হাসানের মতো অলরাউন্ডার হওয়াই তার স্বপ্ন। এখনো হয়তো সেই উচ্চতায় পৌঁছাননি, তবে সঠিক পথেই যে হাঁটছেন—তা চট্টগ্রাম টেস্টেই আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি।
চট্টগ্রামের উইকেটে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে শুধু দলকে বড় লিড এনে দেননি, গড়েছেন এক ঐতিহাসিক ডাবল মাইলফলকও-টেস্টে ২০০ উইকেট ও ২০০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন বাংলাদেশের এই তরুণ অলরাউন্ডার।
এতদিন এই গৌরবময় রেকর্ডে বাংলাদেশের দ্রুততম ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু এবার তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন মিরাজ। মাত্র ৫৩ টেস্টেই ২০০ উইকেট এবং ২০০০ রানের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি, যেখানে সাকিবের লেগেছিল ৫৪ টেস্ট। বিশ্বের টেস্ট ইতিহাসে এ অর্জন রয়েছে মাত্র ২৬ জন ক্রিকেটারের। কিন্তু দ্রুততার বিচারে মিরাজ আছেন একেবারে ওপরের দিকেই। ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি চতুর্থ। এর চেয়েও কম টেস্টে ডাবল পূর্ণ করেছেন কেবল ইয়ান বোথাম (৪২), ইমরান খান ও কপিল দেব (৫০), এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৫১)।
চট্টগ্রাম টেস্টে মিরাজ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, বাংলাদেশ তখন ধ্বংসস্তুপে। শেষ বিকেলে ব্যাটিং ধসে যখন বড় লিডের স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে, তখন লেজের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে নিয়ে গেলেন ২১৭ রানের লিডে।
১৬২ বলে ১০৪ রানের এক ধৈর্য ও শৈল্পিক ইনিংস খেলেন মিরাজ, যার মধ্যে ছিল ১১টি চার ও ১টি ছক্কা। এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস এবং দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। প্রথমটি এসেছিল ২০২১ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর আগে সিলেট টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। চট্টগ্রামে খেলতে নামেন ১৯৬৪ রান নিয়ে, আর সেই ম্যাচেই পৌঁছে যান ২০০০ রানে।
মিরাজের আগে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সাদমান ইসলাম। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ৬৪ রানে, ৩ উইকেট হাতে রেখে। এরপর মিরাজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গড়ে ৪৪৪ রানের বিশাল সংগ্রহ। জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে ২১৭ রানের লিড—ম্যাচে এখন চালকের আসনে বাংলাদেশ।