বরেন্দ্রের মাঠে হলুদ তরমুজ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ অন্যতম। তরমুজ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও উপকারিতাও অনেক। সেই সাথে নানা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও রয়েছে। তরমুজের পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় সকলের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় ফল। গ্রীষ্মকালের এ ফলে রয়েছে শতকরা প্রায় ৯৩-৯৫ ভাগ পানি। যা আমাদের দেহের পানির চাহিদা মিটিয়ে শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে।
তরমুজে ভিটামিন এবিসি ও বি-২ থাকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন ফল হওয়ায় এটি শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে। চাপাইনবাবগন্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় এই প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে হলুদ তরমুজের চাষ করা হয়েছে। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় আর খেতেও রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ।
উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের চাষী সাহিন আলম এ হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় সবুজ লতাপাতার মাঝে দোল খাচ্ছে হলুদ রঙের ছোট-বড় অনেক তরমুজ। হলুদ তরমুজে ছেয়ে গেছে পুরো ক্ষেত।
তরমুজের এই নতুন ফলন দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিচ্ছেন এই রসালো ফলটি, আবার কেউ শুধু ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাহিনের হলুদ তরমুজ চাষের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
যদিও লাল রঙের তরমুজ আমরা সবচেয়ে বেশি দেখতে পাই। তবে এগুলি অন্যান্য রঙেও পাওয়া যায়। যেমন-কমলা, হলুদ এবং সাদা।
তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, সি পটাশিয়াম ও আঁশ। মওসুমি এই ফলটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি৬’-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি খেলে দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে।
এই ফলটি নিয়মিত খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।
কৃষক সাহিন আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ বছর তিনি ১ একর জমিতে হলুদ তরমুজের চাষ করেছেন। প্রচন্ড খরার কারণে তরমুজের ফলন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জমিতে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার তরমুজ রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ফল বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। তাই বর্তমানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক সাহিনের।
এখন পর্যন্ত ১ একর জমিতে হলুদ তরমুজ চাষে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। বর্তমান বাজারে এ হলুদ জাতের তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষক সাহিন। মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ দিনে অন্য কোন ফসল থেকে এই পরিমান আয় করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় গ্রীষ্মকালে এ পণ্য নতুন হওয়ায় প্রথম থেকেই এ তরমুজ চাষে তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গানিউল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার জানান, কৃষক সাহিন আলম হলুদ তরমুজ চাষে এ উপজেলায় নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন। এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের অর্থায়নে রাধানগর ইউনিয়নে আমরা উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে হলুদ তরমুজ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সেই সাথে পরিবেশ বান্ধব ও উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ীর লক্ষ্যে পলিথিন মালচিং ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা কৃষককে প্রদান করা হয়।
কৃষক সাহিন আলম ১ম বারের মত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার পূর্বক হলুদ তরমুজ চাষ করছেন। বর্তমানে এটি এলাকার কৃষকের নিকট বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রত্যাশা কৃষক বাজারে ভালো দাম পাবে। কারণ এই হলুদ তরমুজটি যেমন আকর্ষণীয় দেখতে ঠিক তেমনি খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি।
আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তরমুজ চাষ উপযোগী জমিতে এই হলুদ তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছি। সঠিক ফসল চাষ করে কৃষকের আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়টি নজর রাখছি এবং একই সাথে উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার নিশ্চিতে জোর দিচ্ছি।


প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৫ | সময়: ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ