বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বালু উত্তোলনে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলেন আদালত। পাশাপাশি এরআগে রাজস্ব প্রদানকারি পক্ষে বালু উত্তোলন বিষয়ের যুৎসই সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কপি জেলা প্রশাসকের বরাবরে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বালু উত্তোলন বন্ধ না রাখলে এবং রাজস্ব প্রদানকারিদের পক্ষে নির্ধারিত বালু উত্তোলনের সুযোগ না দিলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।
এরআগে চলতি বছরের ১৭ মার্চ হাইকোর্টের আদেশ মতে বালি উত্তোলনের অনুমতির দাবিতে জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করেন একটি পক্ষ। সাক্ষাতে অংশগ্রহনকারীরা ন্যায্য দাবি তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তি পত্র অনুসারে পদ্মা নদীর খাত থেকে বালি/মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার জন্য উত্তরদাতাদের একটি নির্দেশনার জন্য, মৌজা-মুক্তারপুর, মিরসপুর, গোরজপুর, মিরসপুর এবং গোরগঞ্জের মধ্যে অবস্থিত রিট পিটিশন-”ডি” থেকে স্পষ্ট। থানার মতিহার-চারঘাট, মৌজা- কাজলা, শ্যামপুর, কাদিরপুর, চরশাহীপাড়া, থানার-গোয়ালিয়া, মৌজা- শ্রীরামপুর, চরবিন্দদহ, মদনপুর, নবিনগর, বসুরী, নবগঙ্গা হরিপুর, থানার-রাজপাড়া, মৌজা বারুইপাড়া, নওগাঁওপাড়া, নওগাঁওপাড়া, নওগাঁও। থানার চর, খাতলপাড়া ফরহাদপুর ও ডোমিরিয়া- গোদাগাড়ী, জেলা- রাজশাহীকে বলা হয়েছে। এই আদেশের কপিও বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ-র হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট এবং ২৩.০৪.২০০৭ তারিখের বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তি পত্র অনুসারে বিআইডব্লিউটিএ-র অনাপত্তি পত্র অনুসারে পদ্মা নদীর খাত থেকে বালি/মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার জন্য কেন উত্তরদাতাকে নির্দেশ দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য উত্তরদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি বিধি নিসি জারি করা হোক-বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার সাজেদুল ইসলাম তারেক বলেন, ২০০৭ সালের বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে উচ্চ আদালত বিভাগ (বিশেষ মূল বিচার বিভাগ) পদ্মা নদী থেকে মাটি/বালি উত্তোলনের জন্য অনুমতি চেয়ে রিট পিটিশন করা হয়। সেখানে আদালত ২০ লাখ ঘনফুট বালি বা মাটি উত্তোলনের আদেশ দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসন ও আওয়ামী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের যোগসাজসে আমাদের বালি উত্তোলনের কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। পাশাপাশি মামলা-হামলার হুমকী দেয়া হয়। বর্তমানে আইনের সুবিধা ও আমাদের ন্যায্য প্রাপ্যতা পাওয়ার জন্য আবারো উচ্চ আদালতের রিট পিটিশন করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর আবারো মেসার্স বরেন্দ্র এসোসিয়েটস এর প্রোপাইটার মাহফুজা মোরশেদ এই রিট পিটিশন করেন। রিট পিটিশনের আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য বলা হয়।
এর আগে ২০১৩ সনে পদ্মা নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁত করে আমাদের বালি উত্তোলন করতে দেয়নি। শেষে আবারো বালি উত্তোলনের সুযোগ চেয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে উচ্চ আদালত বিভাগ (বিশেষ মূল বিচার বিভাগ) ২০২৫ সালের রিট পিটিশন করা হয়। এতে আদালত প্রশাসনকে এমন আদেশ দিয়েছেন হয় আবেদনকারি প্রতিষ্ঠানকে বালি উত্তোলনের সুযোগ দিতে অথবা বাতিলের আদেশ দিতে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আইনের সুবিধা পাওয়ার সকলের অধিকার আছে। আবার রাষ্ট্র রাজস্ব নিয়েছেন। সেইহেতু বাতিল করতে পারেন না। তবে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে বালুমহাল নতুনভাবে টেন্ডার হয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনে মহামান্য আদালত ৬মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এরআগে রাজস্ব প্রদানকারির পক্ষে বালু উত্তোলন বিষয়ের যুৎসই সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম আহবায়ক সামশুল হোসেন মিলু, মেসার্স বরেন্দ্র এসোসিয়েটস এর প্রতিনিধি সাজেদুর রহমান, বিএনপি নেতা পলাশ, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।