ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর বাজার সিসি ক্যামেরাভুক্ত করতে চান ইউএনও

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজার ও তাহেরপুর বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম। সোমবার বেলা ১১ এগারোটায় বাগমারায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি ও পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় ইউএনও এই ঘোষণার কথা ব্যক্ত করেন।
বাগমারার ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এবং ব্যবসা বানিজ্যেরে প্রাণকেন্দ্র। সম্প্রতি এই দুই বাজারে দিনে-দুপুরে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটো চুরি ছিনতাই সহ মাদক সেবীদের অবাধ বিচরণ সহ নারীদের প্রতি যৌন হয়রানী সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে ভুক্তভোগি মহল কোনই প্রতিকার পায়না। এসব ঘটনায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও কোন সমাধান মিলে না। তাই ভোক্তভোগি মহল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দারস্থ হওয়া শুরু করেন। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাগমারার এই দুই গুরুত্বপূনূ বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
ইউএনও অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাহেরপুর পৌরসভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। বাজার জরিপ কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। খুব দ্রুতই এই কাজ শুরু হবে। তাহেরপুর বাজারের পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন করা হবে। তাহেরপুর পৌরসভা ও ফাঁড়ি পুলিশ এসব ক্যামেরার তদারকি করবেন। এ দিকে ভবানীগঞ্জ বাজার থেকে সাতদিনের ব্যবধানে তিনটি মোটরসাইকেল ও দুটি ভ্যান গাড়ি চুরির ঘটনাটি এলাকাবসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই এই বাজারেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অচিরেই এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এ দিকে বাজারে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সিসি ক্যামেরা স্থপানের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এসব ক্যামেরার রক্ষণা বেক্ষণ ও তদারকি নিয়ে তারা ঢাকা বরিশাল ও রাজশাহী সহ বড় বড় শহরের উদহারণ তুলে ধরে বলেন, ওইসব শহরে ব্যাপক ঢাক ডোল পিটিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে রক্ষণা বেক্ষণ ও তদারকির অভাবে ওইসব ক্যামেরা দুই এক মাসের মধ্যে নষ্ট ও চুরি হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে ইউএনওকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে আমরা তাড়াহুড়া করছি না। ভেবে চিন্তে এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা হবে। যাতে জনগণ এখান থেকে সেবা পায় এবং জনভোগান্তি লাঘব হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিউল্লাহ নেওয়াজ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিব, শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ, এলজিইডি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বাগমারা থানার এসআই আব্দুল মজিদ, চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু, আজহারুল হক, হাবিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম, বাগমারা প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, সদস্য মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার সিংহ সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভার সদস্যরা।
অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা জুড়ে চলমান জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে চলমান পুকুর খনন, চুরি, মাদক, যানজট, বিদ্যুৎ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান সহ আইন শৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২৫ ও ২৬ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৫ | সময়: ৪:০০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর