বাগমারায় পুকুর খনন বন্ধে হার্ডলাইনে ইউএনও

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: অবশেষে বাগমারায় পুকুর খনন বন্ধে হার্ড লাইনে নেমেছেন ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম। ছুটির দিন শনিবার দুপুরে পুকুর খনন বন্ধে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শুভডাঙ্গার নিমাই বিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নামের ইউএনও। এ সময় পুকুর খনন কাজে নিয়েজিত দুইটি ভ্যেকু গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে পুকুর খনন কাজে জড়িতরা প্রশাসন আসার খবর পেয়ে আগেই সটকে পড়ে। এর আগে গত ৩ মার্চ দৈনিক সানশাইনে ‘বাগমারায় বিলে বিলে পুকুর খননের মহোৎসব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। তারা পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নেমে পড়েন।
ইউএনও’র অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক বিল দখল করে শুরু হয়েছে পুকুর খননের মহোৎসব। বাগমারার ১৬ টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটিতে রয়েছে বিশাল আকারের বিল। আর এই বিল দখল করে বর্তমানে শুরু হয়েছে পুকুর খনন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাগমারার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশি পুকুর খনন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন করা হচ্ছে আউসপাড়া, শুভডাঙ্গা, গনিপুর, ঝিকরা ও বিহানালী ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশতাধিক স্পটে রাতের আঁধারে চলছে পুকুর খনন। আউসপাড়া ইউনিয়নের নিমাই বিলে একই স্টাইলে চলছে পুকুর খনন। এই বিলের চারিপাশের গ্রাম সারন্দি, কোন্দা, ধামিনকৌড়, খোদ্দকৌড়, গাঙ্গোপাড়া সহ ১০-১২টি গ্রামের শতশত কৃষকের আবাদী ধানী জমি জোরপূর্বক দখল করে তিনটি স্পটে রাতের আধারে পুকুর খনন করছে স্থানীয় প্রশাবশালী মহল।
একই ভাবে শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের নিমাই বিল এলাকার ৪-৫ টি গ্রামের প্রায় ৭০ জন কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন করছে ওই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেন, খুরশেদ আলম, আব্দুল হাকিম, আব্দুল মকিম ও সাহেব আলী সহ ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট। অসাধু এই সিন্ডিকেটের পুকুর খননের বিষয়টি অবগত হয়ে ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম নিমাই বিলে অভিযোন পরিচালনা করেন।
ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম জানান, বাগমারায় মহামারি আকার ধারন করেছে এই পুকুর খননের বিষয়টি। এটাকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। এক দিকে বন্ধ করলে আরেক দিকে কাটা শুরু করছে অসাধু চক্র। অধিকাংশই পুকুর খননের কাজ চলছে রাতের আঁধারে। দিনের বেলায় তারা গা ঢাকা দিয়ে থাকে। এর দুইদিন আগে সহকারি কমিশনার ভূমি নাহিদ ইসলাম গনিপুরের দুবিলা নামক বিলে অভিযান চালিয়ে পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত আরো দুইটি ভ্যেকু গুড়িয়ে দেয়। তারপরও টনক নড়ছে না খননকারীদের।
পুকুর খনন নিয়ে বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কালাম হোসেন প্রায় হাফ ডজন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা নিজেরাই পুকুর খননের সাথে সরাসরি জড়িত। আমরা প্রশাসনকে ব্যাপক ভাবে সহযোগিতা ও সাহস দিয়েও পুকুর খনন নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। এতে দলের ব্যাপক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আস্থা হারাচ্ছে বিএনপি।
ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম জানান, পুকুর খনন বন্ধে কাউকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান পরিচালন করছি। এখন থেকে পুকুর খনন বন্ধে আইনের সর্বোচ্চ ধারা প্রয়োগ করা হবে।


প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৫ | সময়: ৩:১২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ