কৃষি শ্রমে এখনো বৈষম্যের শিকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী

স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মার পানির মতো সময় অনেক গড়িয়েছে। দশকের পর দশক পার হয়েছে। নারীদের অধিকার নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। সফলও হয়েছে অনেক কর্মক্ষেত্রে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় পদে বসেছে নারীরা। বাংলার নারীদের জীবন চিত্রে পরিবর্তন আসলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারী শ্রমিকরা। কৃষি জমিতে সমান কাজ করলেও নারীদের মজুরি পেতে হয় পুরুষের চেয়ে কম। তাই এখনো সম অধিকার ফিরে পেতে মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে নারীদের নামতে হয় আন্দোলনে।
রাজশাহী, নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারী শ্রমিকরা কৃষিক্ষেত্রে কাজ করে দৈনিক মজুরি পান ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক পান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের নারী শ্রমিক ফুল মূর্মু। ছোট থেকেই কাজ করেন কৃষি জমিতে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি মজুরি বৈষম্যের শিকার। যেখানে পুরুষ শ্রমিকরা পান দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সেখানে ফুল মুর্ম পান ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। পেটের দায়ে এই বৈষম্য মেনে নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে তাকে।
একই গ্রামের চেরি মুর্মু বলেন, যখন কাজ পাওয়া যায় তখন কাজ করি। কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবিকার প্রয়োজনে আমাদের অন্যের জমিতে কাজ করতে হয়। এখন কাজ কম। ধান রোপণ ও কাটার সময় তিনি নারী শ্রমিক হিসেবে পান ৪০০ টাকা আর পুরুষ শ্রমিকরা পায় ৬০০ টাকা। সমান কাজ করলেও আমরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।’
নারীরা অনেক জায়গায় সফল হলেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারী শ্রমিকরা কৃষিক্ষেত্রে কাজে এখনো বৈষম্য থেকেই গেছে। তাই তো এখনো এ সব অধিকার আদায়ে নারীদের মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে আন্দোলনে নামতে হয়।
সিসিবিভিও-রাজশাহী ও ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড জার্মানী-এর সহায়তায় এবং রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে “রক্ষাগোলা গ্রাম ভিত্তিক স্থিতিশীল খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী”-এর আওতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটে “অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন নারী ও কন্যার উন্নয়ন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্তাজাতিক নারী দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়। শনিবার এ উদযাপনের সময় নারীদের প্রধান দাবিই ছিলো কৃষি কাজে সমান অধিকার।
এতে রক্ষাগোলা সংগঠনের শতাধিক নেতা-নেত্রী ও সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাকনহাট সিসিবিভিও শাখা কার্যালয় হতে র‌্যালিটি কাকনহাটের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করে এবং র‌্যালী শেষে শাখা কার্যালয় প্রশিক্ষণ কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি সুধীর সরেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেত্রী বিউটি তীর্কি, সিসিবিভিও’র সমন্বয়কারী আরিফ ইথার, যুব নেত্রী এলিসাবেথ টুডু, নেতা শ্রী সরল এক্কা এবং সিসিবিভিও’র উদ্ধর্তন মাঠ কর্মকর্তা নিরাবুল ইসলাম ও নারী উন্নয়ন কর্মর্কর্তা সবিতা রানী।
বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে দাবী তোলেন, কৃষিকাজে জড়িত জনজাতির নারী-পুরুষের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি চাই, উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, জনজাতির নারীদের কৃষি মজুরীতে সমঅধিকার চাই, বাল্যবিবাহ, যৌতুক রোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও নারী দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মনিটরিং ও আইটি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন সিহাস, মাঠ কর্মকর্তা পৌল টুডু, প্রশিক্ষণ ও সংস্কৃতিক কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরীসহ সংস্থার সকল সংগঠকগণ।


প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৫ | সময়: ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর