, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরের চুনিয়াপাড়ায় অন্তত শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্ত এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্নাঙ্গ দৃশ্যমান হবে এ রিসোর্ট।
এটি পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। উদ্যেক্তরা বলছেন, তাদের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পরিবহন, খাদ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবাখাতকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে অনেকটাই আলাদা জেলার তানোর চুনিয়াপাড়ার গড়ে তোলা হচ্ছে রিসোর্টটি। স্থানীয় উদ্যেক্তা সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ রিসোর্টটি গড়ে তোলা হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম এ প্রকল্পের চেয়ারম্যান। তারসঙ্গে আরো কয়েকজন উদ্যেক্তারা রয়েছেন। এদের মধ্যে শামিম হোসেন ও মিঠুন কুমার অন্যতম।
তারা বলছেন, এ প্রকল্পের কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বরেন্দ্রভূমির মাটির গন্ধ, গ্রামের স্বাভাবিক জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য-এই তিনের সমন্বয়ে চুনিয়াপাড়ায় তৈরি হচ্ছে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট। উদ্যোগটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর পর্যটন মানচিত্রে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। শহরের ব্যস্ততায় ক্লান্ত মানুষের জন্য হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতি ও শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক ভিন্নধর্মী ঠিকানা।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন কুমার জানান, শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে তাদের এ প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে কৃষি, প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও অবকাশযাপনের সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ প্রকল্পের উদ্বোধন ও বিশেষ অতিথি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব। এছাড়া সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও উদ্যেক্তরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে কুটুমবাড়িকে সবার জন্য একটি আনন্দময় মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের মূল ডিজাইনার মো. মামুন সারোয়ার বলেন, প্রকল্পটির জন্য ব্যতিক্রমী নকশা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর একটি স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।
কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন কুমার জানান, প্রকল্পের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হতে যাচ্ছে মাটির ঘর। আধুনিক নগরজীবনের কংক্রিটের দেয়াল থেকে বেরিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাবেন গ্রামীণ আবহ ও মাটির ঘরের আপন অনুভূতি।
মাটির গন্ধ, খোলা বাতাস, গ্রামের পরিবেশ ও চারপাশের প্রকৃতি মিলিয়ে তৈরি হবে শেকড়ের কাছে ফেরার অভিজ্ঞতা। মাটির ঘরের বারান্দায় বসে দূরের মাঠ দেখা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
উদ্যেক্তারা জানান ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’ নামের মধ্যেই রয়েছে প্রকল্পটির মূল ভাবনা। কৃষিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এখানে। বিস্তৃত পরিসরে কৃষি ও প্রকৃতিকে ঘিরে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যটনসুবিধা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ, প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এখানে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।