সর্বশেষ সংবাদ :

বড়াইগ্রামে চিরকুট লিখে মিটার চুরি বিকাশে টাকা দিলে ফেরৎ পাচ্ছেন গ্রাহক

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: বড়াইগ্রামে রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে বিদ্যুতিক মিটার। চুরি যাওয়া মিটার বক্স বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে একটি মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। ওই নম্বরে ফোন করলে দাবি করা হয় সাত-আট হাজার টাকা। দরদাম করে নগদ বা বিকাশ নম্বরে চাহিদামত টাকা পরিশোধ করলেই মিটারটি কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলে পরেও মিটার থাকবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে চোরেরা। আর টাকা না পাঠালে সেচ পাম্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছে।
জানা যায়, গত সোমবার রাতে উপজেলার বড়াইগ্রাম পৌরসভার বড়াইগ্রাম থানা মোড়, মাদরাসা মোড় ও মৌখাড়া এলাকা থেকে পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের মিটারসহ অন্তত ৬টি মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর এক সপ্তাহ আগে বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের রয়না ভরট থেকে একটি গভীর নলকুপ ও জালশুকা বাজার থেকে একটি চালকলের মিটার চুরির ঘটনা ঘটে।
মৌখাড়া এলাকার পারভীন স’ মিলের মালিক ইয়াসিন আলী জানান, সকালে মিলে এসে দেখেন চোরেরা মিটার নিয়ে কাগজে একটি নম্বর লিখে রেখে গেছে। ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চক্রটি মিটার ফেরত দিতে বিকাশে সাত হাজার টাকা পাঠাতে বলে। বাধ্য হয়ে তিনি তিন হাজার একশ’ টাকা পাঠালে বাড়ির পাশে একটি আম বাগানের বালুর স্তুপে মিটার রাখা আছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ২০-২৫ জন মানুষ মিলে সারাদিন খুুঁজেও মিটার পাননি তিনি। বুধবার দুপুরে তিনি জানান, গোটা বাগান জুড়েই নদী খননের মাটি আর বালু রাখা। কোথায় রেখেছে, খুঁজেই পাচ্ছি না। টাকাও দিলাম, কিন্তু মিটার পেলাম না।
বড়াইগ্রাম থানা মোড় এলাকার রমজান আলী বলেন, ‘আমার বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেয়া গভীর নলকুপের মিটার চুরি হয়েছে। চোরের দেয়া মোবাইল নম্বরে কল করে ৩ হাজার একশ’ টাকা দিলে তার তথ্যের ভিত্তিতে নলকুপের পাশের ভূট্টার জমি থেকে মিটার পেয়েছি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
বাজিতপুর গ্রামের গভীর নলকুপের অপারেটর হাবিবুল বাশার রিপন জানান, এবার নিয়ে চারবার আমার সেচ পাম্পের মিটার চুরি হয়েছে। থানায় অভিযোগ করে কোন ফল পাইনি। প্রতিবার চোরের দেয়া মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠিয়েই মিটার নিতে হয়েছে। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। চোরের মোবাইলে কল দিলে রিসিভ করছে, কথা বলছে। তারপরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন তাদের সনাক্ত করতে পারছে না তা বুঝি না।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মিটার চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। টাকা দাবি করা মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাকিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান মিটার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মিটার চুরি রোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়েছি। তাছাড়া ওই এলাকার গ্রাহকদের নিয়ে সভা করাসহ সচেতনতামুলক মাইকিং করা হয়েছে।’


প্রকাশিত: March 6, 2025 | সময়: 6:07 am | সুমন শেখ

আরও খবর