বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সবুজ ইসলাম
১৯৮৫ সালে নির্মিত রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দর এখন যাত্রীদের কাছে আস্থার প্রতিক হিসেব বিবেচিত হয়েছে। রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে প্রতিদিন যাত্রী সংখ্য বাড়ছে। তাই পূর্বের তুলনায় সরকারী এবং বেসরকারী বিমান পরিবহন সংস্থা তাদের ফ্লাইট সংখ্য বাড়াচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই রুটে ছয়টি ফ্লাইটে যাত্রী আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু ২০০৭ সালে যাত্রীর অভাবে লোকসানের মুখে এই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে ৮ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হয় রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দর। চালু হওয়ার পরে এই বিমানবন্দর থেকে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যাত্রীসেবা এবং আয়ের দারুণ সম্ভাবনা থাকায় বিমানবন্দরটি আধুনিকায়ন করার কাজ শুরু হয়েছে।
কাজ শেষ হলে অভ্যন্তরীণ এই রুটের বিমানবন্দরে যাত্রীরা পাবেন অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন। আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজশাহীবাসী কৃষিজাত পণ্য দ্রুত বহিবির্শ্বে রপ্তানি করতে পারবে এবং পাশাপাশি এই বরেন্দ্র অঞ্চলে শিল্পায়ন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা তৈরী হবে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ থেকে গ্রাউন্ড ষ্টেশনের নির্মাণ কাজ চলছে। বিমানবন্দরের দক্ষিণ পার্শ্বে রানওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে উচুঁ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, রানওয়ের প্রস্থ ১০০ ফুট থেকে বেড়ে ১৫০ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর আধুনিক প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একই সাথে তিনটি উড়োজাহাজ অবস্থান করতে পারবে।
কার্গো বিমান ওঠানামা সহ একই সাথে তিনটি উড়োজাহাজ পার্কিং করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখনকার রানওয়ে ২৬০ বাই ২৫০ ফুটের আ্যপ্রন হবে ২৭৫ বাই ২৫০ ফুট। আধুনিক টার্মিনাল ভবনটির নিমার্ণ কাজ শেষ হলে এর নিচতলার আয়তন হবে ১৭ হাজার বর্গফুট। দ্বিতীয় তলার আয়তন হবে ১১ হাজার বর্গফুটের। টাওয়ার ও অন্যান্য স্থাপনা সহ টার্মিনাল ভবনটির জায়গা হবে ৩১ হাজার বর্গফুটের। চেকইন কাউন্টার সংখ্য আগের তুলনায় দ্বিগুণ বড় হবে। সাথে থাকবে বিশালআকৃতির কনকার্স হল, ডিপচার লাউঞ্জ, আর্যইভাল লাউঞ্জ, স্ন্যকস কর্নার ও ভিআইপি লাউঞ্জ । প্রাথমিক ভাবে আধুনিক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা।
বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক দিলারা পারভিন জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটি আর্ন্তজাতিক মানে গিয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, “আগে আমাদের বিমানবন্দরে প্যাসেঞ্জার ক্যাপাসিটি ছিলো ১৬০ জন, কিন্তু বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এখানে প্যাসেঞ্জার ৩৩০ জন হবে। যারা আমাদের ষ্টেক হোল্ডার হিসেবে কাজ করে এয়ারলাইন্স গুলো তাদের জায়াগ বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীদের ল্যাগেজ দ্রুত পাবে। একই সাথে পূর্বের তুলনায় এই বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মানও বাড়বে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের ৩৩ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বিমানবন্দরের পুরো কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে।”
সানশাইন /শামি