বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ভারত -না-হি-দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলি-যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৬টায় রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে প্রবেশের পর কাজ শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।

 

 

স্মরণ-কালের ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও মৌলভীবাজার-সহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চল। জাতীয় সংকটের এই সময় দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

 

 

বন্যাদুর্গত জেলার এলাকা গুলোতে দ্রুত সরকারি-বেসরকারি স্পিড বোট পাঠানো-সহ ৫ দফা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অফিসে গিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

 

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে আহ্বান করে বলুন প্রধান উপদেষ্টা থেকে নির্দেশ আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে কন্ট্রোল রুম চালু করুন।

 

 

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে যেন আর শিক্ষার্থীদের ঘেরাও করা না লাগে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেমে কাজ করুন। সব বাহিনী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের যেন আর নির্দেশনা দেয়া না লাগে।

 

নাহিদ বলেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে যদি কোনো রাষ্ট্র দাঁড়ায় তাহলে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা রুখে দেবে।

 

 

এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সব শ্রেণির মানুষকে জাতীয় প্রয়োজনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ। দাবিসমূহ:

১. সরকারি-বেসরকারি যত স্পিড বোট আছে এই মুহূর্তে বন্যা কবলিত স্থানে পাঠাতে হবে।

 

২. ছোট ছোট লঞ্চ বিভিন্ন পোর্টে যেগুলো আছে খুব দ্রুতই বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠাতে হবে।

 

৩.বন্যায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সব যানবাহনকে কর্তৃপক্ষ থেকে জরুরি ভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে।

 

৪. সব বেসরকারি ট্রলার ও স্পিড বোটের এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্রি করে দিতে হবে।

 

৫. যতদিন এই দূর্যোগ অবস্থা বিরাজমান থাকবে ততদিন ২৪ ঘণ্টাই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় প্রতিনিধি পাঠাতে হবে।

 

উল্লেখ্য, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেয়া হয়েছে। উজানের পানি ত্রিপুরার বিভিন্ন জনপদ ভাসিয়ে হু হু করে ঢুকছে বাংলাদেশে। ভারী বর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে বানের পানি ঢুকতে থাকায় ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও মৌলভী বাজার-সহ ৬ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮ লাখ মানুষ।

 

সানশাইন/ আর এক্স


প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৪ | সময়: ১:১৪ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine