সর্বশেষ সংবাদ :

প্রচণ্ড তাপদাহে মিলছে না শ্রমিক

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: উপজেলা সহ আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকে চড়া রোদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উর্ধ্বমূখী হচ্ছে তাপ মাত্রা। ব্যাপক এই তাপাত্রার কারণে হাটে মাঠে ঘাটে কোথাও কোন কাজের শ্রমিক মিলছে না। কী নির্মাণ শ্রমিক, কী কৃষি শ্রমিক। বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে তাদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে এই উপজেলার ঝিকরা ও বড়বিহানালী ইউনিয়নে হিটস্ট্রোকে দুই জন কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমিকরা আর রোদের মধ্যে কাজে যেতে চাইছেন না।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাচেন আলী জানান, তিনি পৌর ভবন সহ ভবানীগঞ্জ মাষ্টারপাড়ার ড্রেন সহ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে চান। এ জন্য ঠিকাদারকে বার বার তাগাদা দিয়ে চলেছেন। কিন্তু চাহিদা মত শ্রমিক না পাওয়ায় কাজ গুলো শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তারপরও বিকল্প ভাবে শ্রমিক সংগ্রহ করে কাজগুলো শেষ করার উদ্যোগে নিয়েছেন বলে জানান।
একই অভিমত ব্যক্ত করে ভবানীগঞ্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট ইটভাটা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম হেলাল বলেন, তার শ্রমিক চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু সেই হারে শ্রমিক পাচ্ছেন না। এমনকি বেশি মজুরী দিয়ে তাদের কাজে আনা যাচ্ছে না। তার মতে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে প্রত্যেকটি সেক্টরে এমন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, শুধু শ্রমিক সংকেটর কারণে এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ ও অনেক রাস্তার কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ জন্য ঠিকাদারদের বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন বয়সের লোকজন উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগ, সর্দি-কাশি, জ্বর সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান জানান, প্রচণ্ড গরম জনিত কারণে রোগির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আমরা আউটডোর সার্ভিসের মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে রোগিদের সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এদিকে চাহিদামত বিদ্যুত না পেয়ে এবং বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এমনকি নামাজের টাইমে বিদ্যুত না পেয়ে মুসল্লীরা তিক্তবিরক্ত। বিদ্যুত থাকছে না জুম্মার নামাজের সময়ও। এম বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ বাগামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, গোটা উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৩০-৩২ মেগাওয়াটের স্থালে পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। বিশাল এই উজেলায় আমরা লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন এখানে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় এমপিকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।


প্রকাশিত: July 29, 2024 | সময়: 6:14 am | সুমন শেখ