বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী মহানগরীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে পারেনি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট জমায়েত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি করতে পারেনি তারা। নগরীর সাহেব বাজার ও মালোপাড়া এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে কোটা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াতের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও আজকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির। সে কারণে আমরা সকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছিলাম। তারা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। আমাদের কর্মসূচিতে এসে আন্দোলনকারীদের একজন এসে স্বীকার করেছে, আন্দোলন তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। তাই তিনি সবাইকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাকিব হাসান অর্ণব আন্দোলনরকারী শিক্ষার্থীদের জিরোপয়েন্ট থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আমাদের আন্দোলনের মধ্যে বিশৃঙ্খলাকারীরা ঢুকে অনেক ক্ষতি করেছে। কারা এরা কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলো, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। আমরা বিশ্বাস করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে কোটা সংস্কার করবে। এটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তাই আমি জিরো পয়েন্ট থেকে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার, মহানগর শ্রমিক লীগ সভাপতি মাহাবুবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আকতার আলী, মহানগর যুবলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান খাঁন মনির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম।
এ সময় উপস্থি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, রেজাউল ইসলাম বাবুল ডা. তবিবুর রহমান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আসাদুজ্জামান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জিয়া হাসান আজাদ হিমেল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, সদস্য আশরাফ উদ্দিন খান, আতিকুর রহমান কালু, হাফিজুর রহমান বাবু, আখতারুল আলম, ইউনুস আলী, মোখলেশুর রহমান কচি, থানা আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজপাড়া থানার সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খি”চু, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, মহানগর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মহানগর কৃষক লীগ সভাপতি রহমতউল্লাহ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাকির হোসেন বাবু সহ সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুম মুবিন সবুজ, রাজশাহী রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক রানা, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল, যুবলীগ নেতা নাইম, ১০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন।