বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের সাফল্যকে সমান্তরালে দেখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, দেশের সব অর্জন এসেছে এই দলের হাত ধরেই।
আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় জনগণকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে এ কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, যা আমরা প্রমাণ করেছি।
“বাঙালির সকল অর্জনেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের মানুষের যতটুকু অর্জন তা আওয়ামী লীগের দ্বারাই হয়েছে।” আওয়ামী লীগের পদক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “সব সময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল সংগঠনটি। কিন্তু বারবার এই দলকে আঘাত করা হয়েছে, নিশ্চিহ্নের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যতবার এই আঘাত এসেছে দলটি ততবারই জেগে উঠেছে।”
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দেড় বছরের মাথায় ১৯৪৯ সালের আজকের দিনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ। ছয় বছর পর দলের নাম পাল্টে করা হয় আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর ৫০ এর দশকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠে দলটি। পরে ৬০ এর দশকে নানা ঘটনাপ্রবাহ শেষে ১৯৭১ সালে তাদের নেতৃত্বেই হয় মুক্তিযুদ্ধ, আত্মপ্রকাশ হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবার তিন দিনের আয়োজন রাখে আওয়ামী লীগ, যার সবশেষ ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই জনসভা। এর প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয় ‘গৌরবময় পথ চলার ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম সংকল্প সতত শপথে জনগণের সাথে।’ বিকালে জনসভা শুরু হলেও সকাল ১১টার দিকেই উদ্যানের ফটকগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মূল দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন।
বিকাল সাড়ে ৩টার পর পর সমাবেশ স্থলে এসে পৌঁছান বঙ্গবন্ধু কন্যা। মঞ্চে উঠার পূর্ব মুহূর্তে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি; দলীয় পতাকা তোলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পায়রাও অবমুক্ত করেন শেখ হাসিনা। পৌনে ৪টার দিকে মঞ্চে বসেন তিনি। এরপর মঞ্চের ডান পাশে নির্ধারিত স্থানে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর থিম সং এবং দেশাত্মবোধক নানা গান ও নাচ পরিবেশন করেন।
এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। সভাপতির বক্তব্য দিতে শেখ হাসিনা মাইকের সামনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে। তিনি নিজেও স্লোগান ধরেন। সভা মঞ্চ থেকে সামনের দিকে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী বসার ব্যবস্থা থাকলেও পুরো উদ্যান ঘিরেই ছিল নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে দেশি, বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সবুজ ধরিত্রী’ নামে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ বক্তব্যে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু, পাকিস্তান আমলের সংগ্রাম, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, দল ভাঙার চক্রান্ত, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বক্তব্য পর্ব ছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বক্তব্য পর্ব ছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকেও স্মরণ করেন জাতির পিতার মেয়ে। দলের প্রথম সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আওয়ামী লীগই সংগ্রাম আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে দিয়ে জাতির সব অর্জন এনেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বারবার এই দলের প্রতি আঘাত এসেছে, বারবার এই দলকে খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা হয়েছে, বারবার দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। “আইয়ুব খান থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, বারবার এইভাবে আঘাত এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। তাই বারবার আঘাত এসেও আওয়ামী লীগের ক্ষতি করতে পারেনি।”
১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের ইতিহাসও তুলে ধরেন জাতির পিতার কন্যা। তিনি বলেন “এরপর ক্ষমতা পরিবর্তন হয় হয় অস্ত্রের মাধ্যমে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন তারা করতে পারেনি। “আওয়ামী লীগ ছাড়া যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা সন্ত্রাসবাদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, দুর্নীতি করেছে। তারা জনগণের শক্তি ভুলে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।”
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “আওয়ামী লীগ জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি করার সংগঠন। বারবার আঘাত করেও এই সংগঠনের কোনো ক্ষতি করতে পারে নাই। ফিনিক্স পাখি যেমন পুড়িয়ে ফেলা ভস্ম থেকে জেগে উঠে, আওয়ামী লীগ ঠিক সেইভাবে জেগে উঠেছে। “বেশিদিনের কথা না, ২০০৭ সালেও চেষ্টা করা হয়েছিল; আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে নতুন কিংস পাটি গড়ে তুলবে, সেটাও সফল করতে পারেনি। কারণ, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ, তৃণমূলের মানুষ, আওয়ামী লীগের অগণিত মুজিব আদর্শের সৈনিক। এই সৈনিকরা কখনো পরাজয় মানে না, মাথা নথ করে না।”
দলছুট নেতারা ‘ভুল করেছেন’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের শক্তি হচ্ছে এ দেশের তৃণমূলের জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীরা। কেউ মনে করেছেন আওয়ামী লীগে থাকলে তারাই হয়ত বড় নেতা। দলের থেকে নিজেকে বড় মনে করে কেউ দল ছেড়ে গিয়ে অন্য দল করেছেন, কেউ দল গঠন করেছেন, তারা ভুল করেছেন।
“ভুলে গিয়েছিলেন, তারা আলোকিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বলেই। চলে যাওয়ার পর ওই তারা আর জ্বলেন নাই। তারা আস্তে আস্তে নিভু নিভু, কেউ কেউ নিভে গেছে। কেউ ভুল বুঝে ফিরে এসেছে, আমরা নিয়েছি। কেউ এখনো আওয়ামী লীগের সরকার পতন, ধ্বংস, নানা জল্পনা কল্পনা করে যাচ্ছে।” মঞ্চে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোশাররফ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রিমি, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সৈয়দা জেবুন্নেছা হক উপস্থিত ছিলেন।