সর্বশেষ সংবাদ :

রাসিকের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ভাঙ্গা পড়বে রাবির ফটক

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ঘেঁষা মহাসড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। সৌন্দর্য বর্ধনে সড়কে ডিভাইডার ও উভয় পাশে সবুজায়নের জন্য সড়ে ফেলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর। এতে ভাঙা পড়বে প্রধান ফটক। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা সিটি কর্পোরেশন নিচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ”রাস্তা প্রশস্থ করতে জায়গা চেয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। সেই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা জানিয়েছিলাম কিন্তু সেটার এখনও পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। ফলে আমরা জায়গা দিতে পারিনি। তবে রাস্তা সংস্কারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরের অনেকাংশ ভেঙে গেছে। এখন সিটি কর্পোরেশন সেটা নিজ খরচে নির্মাণ করে দিচ্ছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রাচীর থেকে প্রায় ১০/১২ ফুট পিছিয়ে এসে দৃষ্টি নন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। ওয়াল ও রাস্তার মাঝখানে গ্রিনজোন করা হবে যার সামনে স্টেইনলেস রডের বেরিকেড দেওয়া থাকবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এ জায়গার সম্পূর্ণ মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের থাকবে অন্য কাউকে হস্তান্তর করা হবেনা। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি করা হচ্ছে।নতুন ফটক ও প্রাচীর নির্মাণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের অর্থায়ন করবে সিটি কর্পোরেশন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা প্রশস্থ হওয়ায় গেটগুলো এখন মহাসড়কের সঙ্গে লেগে গেছে। ফলে ক্যাম্পাস থেকে গাড়ি যেতে-আসতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেজন্য গেটগুলো ভিতরের দিকে কিছুটা পিছিয়ে আনা দরকার। তাছাড়া প্রধান ফটকের সামনে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের কথাও আমরা সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়েছি। তারা সেটাও করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালাইমারী মোড় থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত অযান্ত্রিক যানবাহন লেনসহ ৬ লেন সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে ডিভাইডার ও উভয় পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
এই রাস্তার প্রসস্থকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থেকে কিছু জমি চায় সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় ওই সময় জমি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ছয় লেনের স্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে চার লেনে হয়েছে সড়কটি। প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ঘেঁষে সবুজায়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জায়গা চায় সিটি কর্পোরেশন। ফলে মন্ত্রণালয়ে ফের চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের জবাব আসতে বিলম্ব হলে সিন্ডিকেট সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেখে কর্পোরেশনের অর্থায়নে প্রচীর নির্মাণ ও পাদদেশে সবুজায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে স্থানভেদে ১০-১৫ ফুট জায়গা পিছনে সড়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার বলেন, ‘মহাসড়ক ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরের পাদদেশ দিয়ে সবুজায়ন করতে ১৫ ফুট জায়গা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে। কিন্তু জায়গার মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকবে, অর্থায়ন করবে সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে প্রাচীর সহ অন্য যেটাই ভাঙা হবে সেটার অর্থায়ন কর্পোরেশন করবে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, ‘মহাসড়ক ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর স্থানভেদে প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত পিছনে সড়ে প্রচীর নির্মাণ ও পাদদেশে দিয়ে সবুজায়ন করা হবে। জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়েরই থাকবে কিন্তু প্রচীর নির্মাণের অর্থায়ন সিটি কর্পোরেশন করবে। এতে প্রধান ফটক ভাঙা পড়বে কিন্তু সেটার নকশা ও অর্থায়নের সিদ্ধান্ত পরে হবে। তাছাড়া বিনোদপুর ও কাজলা বাজার সংলগ্ন প্রাচীর ঘেঁষা দোকানগুলো সড়বে কিনা সেটাও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।


প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৪ | সময়: ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ