, , ।
সানশাইন ডেস্ক: এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।
এই হিসাবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনও এবারের মতো বাজে ফল আর হয়নি।
শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বরাবরের মতই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএস করেও উচ্চমাধ্যমিকের ফল জানা যাচ্ছে। চব্বিশের অভ্যুত্থান ঘিরে সার্বিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের অধীনে খাতা দেখার ধরন বদলে যাওয়ায় গতবার মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকেও পাসের হারে ধস নামে।
এবার এসএসসিতে পাসের হার আরও কমে হয় ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফল এল। ফলাফলে এমন ধসের পেছনে নির্মোহভাবে খাতা দেখা এবং শিক্ষার্থীদের শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখার কথা বলছে সরকার।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, “আমাদের নির্বাচিত সরকারের আয়োজিত প্রথম এই এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় আমরা নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছি। “প্রত্যেকের খাতায় যে পরীক্ষা যেভাবে দিয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চাইছি এবং এই প্রথমবারের মতন থাকছে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষা।”
অকৃতকার্যদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি। আর শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ফলাফলে এভাবে নিচের দিকে নেমে আসা কখনও কাম্য নয়।
“ঘাটতি আমাদের শিখন পদ্ধতিতে রয়েছে, অভিভাবকদের রয়েছে, পরিবেশ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে, সেটাকে আমাদেরকে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং এটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে—এটাই আমাদের দায়িত্ব।” এ ঘাটতি পূরণের জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খাতা পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “খাতা দেখায় স্বচ্ছতার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং অসঙ্গতি পাওয়া গেলেই সেগুলি নিয়ে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তারা রি-এক্সামিন করতে পারে। তখন আগামী দিনে কী হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারব।” এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষায় ফলাফলে অনেক পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য এসেছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫ হাজার জন ফেল থেকে পাস করেছে। আর ৩ হাজার ৭৯ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না সেটা আমরা দেখি। “তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে—এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কি-না, সেই বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।”
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্ধারিত দিন সকালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সারতেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলের প্রতিবেদন তুলে দিতেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন ওই অনুষ্ঠানে। সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকতা সারার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট ও মোবাইলে ফল জানার সুযোগ মিলত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের বিস্তারিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফল প্রকাশের সেসব আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।