, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। ২০২০ সালের অটোপাসের পর এই বোর্ডে পাসের হার এটাই সর্বনিম্ন। শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন। সেখানে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষায় এবারের ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এ বছর ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৩৭। শনিবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার এসব তথ্য জানান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। গত বছর ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল ৭৭ হাজার ৭৪২ জন। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৫৫ জন।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে: বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ বছর বিভাগের আট জেলায় মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনও পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
৩৯ কলেজে পাস করেনি কেউ: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৩৯টি কলেজের কোনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। বিপরীতে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে মাত্র ৯টি কলেজে। বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের ফলাফলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার আরও কমে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। ফলাফল সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
রাজশাহী কলেজের গৌরবময় সাফল্য: দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফলে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। এ বছর কলেজ থেকে মোট ৪৪১ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে বিজ্ঞান শাখায় ২৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪১ জন, মানবিক শাখায় ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফেল করেছে ২ জন শিক্ষার্থী । সামগ্রিক পাসের হার ৯৯.৫৫ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপ¯ি’ত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইউনুছ আলী, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ইকবাল হোসেন, কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। ফলাফল প্রকাশের পর উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী শিক্ষার্থীদের এ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জিপিএ-৫ অর্জনকারীসহ উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও একাগ্রতা, শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিকতা, এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে উ”চশিক্ষার বিভিন্ন স্তরে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।