সর্বশেষ সংবাদ :

যোগ্যতার প্রাপ্য সম্মানে এবার আলোচনায় সাবেক যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত

নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাষ্ট্রের প্রশাসন ক্যাডারে এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁদের কর্মদক্ষতা, সততা ও জনসেবার মানসিকতা প্রশংসিত হলেও বিভিন্ন কারণে তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য মূল্যায়ন ও পদ বঞ্চিত হয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে কথা বলেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন শীর্ষ নেতা । সেই অভিযোগে উঠে এসছে এবার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্তের নাম।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ , সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন একটি কার্যকর প্রশাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত। কিন্তু কখনও কখনও নানা বাস্তবতায় সেই মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয় ! এমন আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে এবার সাবেক যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্তের নাম। সরকারি চাকরি জীবনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য পরিচিত রথীন্দ্রনাথ দত্তকে ঘনিষ্ঠজনরা একজন মানবিক, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তাঁদের ভাষ্য, তিনি দল, মত, ধর্ম কিংবা সামাজিক পরিচয়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো , সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি অনেকের কাছে একজন জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ।

তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের দাবি, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনে তাঁর চেয়ে জুনিয়র অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত করা হলেও রথীন্দ্রনাথ দত্ত যুগ্ম সচিব পদেই রয়েযান।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রথীন্দ্রনাথ দত্তের চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তারা সচিব ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে উন্নীত হলেও তিনি সেই সুযোগ পাননি। রিজভীর দাবি, তাঁর বড় ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রথীন্দ্রনাথ দত্ত বৈষম্যের শিকার হন। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে তাঁকে তাঁর যোগ্য মর্যাদা ও অবস্থানে মূল্যায়ন করার।

রিজভীর এই বক্তব্যের পর প্রশাসনিক মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনে পদোন্নতি ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা এবং কর্মজীবনের অবদানই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে যোগ্য কর্মকর্তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন অপরিহার্য। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে তা শুধু একজন কর্মকর্তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে না; বরং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাও আরও শক্তিশালী করবে।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬ | সময়: ৮:০৪ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine