শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় শরিফা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কিশোরপুর এলাকার একটি আম বাগান থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয় । পরক্ষনে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত শরিফা খাতুন উপজেলার কিশরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। প্রায় ১৭ বছর আগে গাজীপুর এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় জমি কিনে একটি দালান বাড়ি নির্মান করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শরিফা ও তার স্বামী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বাবার বাড়ি কিশরপুরে আসেন। পরে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে বাড়ির সামনে একটি আমগাছে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে উক্ত ঘটনার পর পরিবারের লোকজন মোবাইল ফোনে বাঘা থানা পুলিশকে বিষয়টা অবগত করলে, সকালে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
নিহতের স্বামী মোহাম্মদ রাব্বি হোসেন খবর পেয়ে সকালে শ্বশুর বাড়ি এসে দাবি করেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ নিয়ে তার স্ত্রী মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার ধারণা, ঋণের চাপ থেকেই শরিফা আত্মহত্যা করে জীবনের জ্বালা মিটেছে ।তবে শরিফার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানাতে পারেননি। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন ,পরিবারের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ায় শরিফা একাই তার বাবার বাড়ি চলে এসছেন।
বাঘা থানার উপ পরিদর্শক ও মামলা তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত বলা যাবে।
নুরুজ্জামান /শামি