সর্বশেষ সংবাদ :

জাতীয় সম্পদ পচছে রাস্তার পাশে

সাপাহার প্রতিনিধি: দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে চামড়া শিল্প। কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এই খাত দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্ত বিগত কয়েক বছর থেকে পবিত্র ঈদুল আযহায় সারাদেশে বিপুল পরিমাণ এই মূল্যবান চামড়া নষ্ট হচ্ছে। সঠিক ভাবে এগুলো চামড়া সংরক্ষণ করতে পারলে গতি পাবে দেশের অর্থনীতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরেও কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চামড়া সংরক্ষণে অতিরিক্ত খরচ, লবণের উচ্চমূল্য ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কের পাশে কিংবা মাটির নিচে পুঁতে ফেলছেন। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগও বাড়ছে। এরই প্রমাণ মিলেছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিছলীডাঙ্গা-সাহাবাজপুর গ্রামীণ সড়কের পাশে। বুধবার সকাল সরেজমিনে দেখা যায়, জামালের আমবাগানের সামনে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকায় চামড়াগুলো পচতে শুরু করেছে এবং আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনের রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বস্তাভর্তি এসব চামড়া সেখানে ফেলে রেখে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা বস্তাগুলোকে আমবাগানে ব্যবহৃত সারের বস্তা মনে করলেও পরে কুকুর ও শিয়াল বস্তা ছিঁড়ে ফেললে চামড়াগুলো বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর কয়েকদিনের মধ্যেই সেগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে প্রায় ২২টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের পাশাপাশি আমবাগানে কর্মরত শ্রমিকরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত চামড়াগুলো অপসারণ না করা হলে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে চামড়ার বাজার ধসের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। এবারও কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া সংরক্ষণ বা বাজারজাত করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে কিছু অসাধু ব্যক্তি অবিক্রীত চামড়া যত্রতত্র ফেলে দিয়ে পরিবেশের জন্য নতুন সংকট তৈরি করছেন। এ বিষয়ে সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দেশের উন্নয়নে এগুলো মূল্যবান চামড়া সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ এবং সরকারি উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি লূৎফর রহমান বলেন,“এইবছর গরুর চামড়ায় রোগ থাকায় অনেক চামড়া বাদ গেছে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে এগুলো নষ্ট চামড়া কিনে তারা আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে। মাঠ পর্যায়ে যদি চামড়ার দাম নিশ্চিত করা যায় এবং ট্যনারি মালিকরা চামড়ার নায্য দাম দেয় তাহলে চামড়ার সুদিন ফিরে আসবে। সেজন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।”


প্রকাশিত: June 4, 2026 | সময়: 4:18 am | সুমন শেখ