বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার আরেক নাম যেন মুশফিক। বয়স, প্রতিপক্ষ কিংবা সময়; কিছুই যেন থামাতে পারছে না তার রান করার ক্ষুধাকে।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে তার ব্যাট থেকে আসে ৭১ ও ২২ রান। সিলেটে প্রথম ইনিংসে আউট হন ২৩ রানে। পরের ইনিংসে উপহার দেন ১৩৭ রানের ইনিংস। এই সেঞ্চুরিতে মুশফিক ছাড়িয়ে যান দেশের সবাইকে।
সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন মুশফিকের, ১৪টি। স্বাভাবিকভাবেই সিরিজ সেরা হয়েছেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। বিস্ময়করভাবে মুশফিক এবারই প্রথম সিরিজ সেরা হলেন! প্রথমবার সিরিজ সেরা হয়ে মুশফিক বলেন, ‘বেঁচে আছি এবং দেশের হয়ে খেলছি এটিই প্রেরণা’ প্রায় ২১ বছর হতে চলছে টেস্ট ক্যারিয়ারের। বাংলাদেশের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলা একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরিসহ অনেক রেকর্ড তার। কিন্তু বিস্ময়করভাবে কখনোই তিনি সিরিজ সেরা হননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টেই দলে প্রভাব রেখে সিরিজ সেরা হয়েছেন তিনি। দুই দল মিলিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ ২৫৩ রান তার। ব্যাটিং গড় ৬৩.২৫।
এরচেয়েও বেশি রান করেছিলেন আরও কয়েকবার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২২ সালের সিরিজে করেছিলেন ৩০৩। গত বছর লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজে ২৭৩ রান করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালের সিরিজে করেছিলেন ২৭০। তারপরও সিরিজ সেরার স্বীকৃতি পেলেন এবার। যদিও নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে মুশফিকের উচ্ছ্বাস খুব বেশি নেই। লিটনের সেঞ্চুরি নিয়ে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে কথা বললেন মুশফিক, ‘এটা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার, ছেলেদের এটি (সিরিজ জয়) প্রাপ্য ছিল। গত ২-৩ বছর ধরে ওরা যেভাবে খেলছে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে, সত্যিই দারুণ। সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিটি ছিল অসাধারণ এবং সেটাই আমাদের খেলায় টিকিয়ে রেখেছিল। ড্রেসিংরুমের মনোবল ছিল তুঙ্গে এবং আমরা লিটনের জন্যও খেলতে চেয়েছিলাম।’
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বেশি রান করার ইচ্ছা ছিল মুশফিকের। যদিও বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে করতে পারে ৩৯০ রান। এ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল, তাই আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৪০০-৪৫০-এর বেশি রান করা, কারণ জানতাম এটা পঞ্চম দিনের সেই গতানুগতিক উইকেট হবে না। বোলাররা সত্যিই তাদের মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলেছে এবং এর সমস্ত কৃতিত্ব তাদেরই প্রাপ্য।’
লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা মুশফিক কিভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন; এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, বেঁচে আছি এবং দেশের হয়ে খেলছি এটাই প্রেরণা। কেউ যদি দেশের হয়ে খেলতে চায়, সেটি সহজে হয় না। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, কোনো কিছুর যোগ্য হতে হয় এবং মাঠে নেমে সেই পরিশ্রমটুকু করতে হয়। আমি জীবন উপভোগ করছি।’