বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো আইনের কঠোরতার মাঝেও মানবিকতার জায়গা অটুট থাকে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক বন্দি বাবাকে তার মৃত সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কারা প্রশাসন, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।
কারা সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। গত শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় তার ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হয়। আকস্মিক এ মৃত্যুর সংবাদ কারাগারে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন দুলাল। পরিবারের পক্ষ থেকে তার শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার আবেদন জানানো হয়। পরে রবিবার আবেদনটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারের প্রধান ফটকে আনা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। সেখানেই বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
কারাফটকের সেই মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর। ছেলের নিথর দেহ দেখে দুলাল ভেঙে পড়েন, তার কান্নায় উপস্থিত স্বজনদের পাশাপাশি কারারক্ষীরাও আবেগ সামলাতে পারেননি। পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখেই মানবিক দিক বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, বন্দি হলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক সম্পর্ক ও অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন,“মানবিক দিক বিবেচনায় আমরা বন্দি দুলালের ছেলের লাশ কারাগারে নিয়ে আসি। মৃতের ফুপু সকালে আবেদন করলে আমি আইজিপি স্যারকে বিষয়টি অবগত করি। স্যার নিদের্শনা দিলে কঠোর নিরাপত্তায় লাশ কারাগারে নিয়ে আসা হয়।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ায়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এই মানবিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।