বৃষ্টির পরেই ‘উধাও’ ইউরিয়া

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া: এক পশলা বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ নয়, বরং দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুঠিয়ার কৃষকদের কাছে। শনিবারের বৃষ্টির পর হঠাৎই ইউরিয়া সারের তীব্র সংকটে পড়েছেন চাষিরা। জমিতে সারের তাগিদ বাড়লেও বাজারে মিলছে না কাক্সিক্ষত ইউরিয়া সার যেটুকু মিলছে, তা কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।
পাট, ভুট্টা সহ মৌসুমি নানা ফসলের জন্য এই সময় সারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে জমিতে সারের চাহিদা হু হু করে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাজারে সরবরাহ নেই। ফলে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
এরই মধ্যে উঠেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নাকি এই সুযোগে মজুত করা ইউরিয়া সার ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের, একদিকে সংকট, অন্যদিকে বাড়তি খরচ, দু’দিকেই চাপে তারা।
এক কৃষকের কথায়, ‘এখন সার না দিলে ফসল যাবে। আবার বেশি দামে কিনলে লাভ থাকবে না, উল্টে লোকসান হবে। আমরা যাব কোথায়?’
তবে ডিলারদের বক্তব্য ভিন্ন। বিসিআইসির ডিলার ওসমান আলী বলেন, ‘কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। মাসের শেষ, তার উপর হঠাৎ বৃষ্টি, নতুন বরাদ্দ আসেনি। এক-দু’দিনের মধ্যে সার চলে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তাঁর কথায়, ‘শ্রমিক দিবসের ছুটি ও মাসের শেষ হওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে কোনো সংকট নেই, খুব দ্রুতই সার আসবে বাজারে।’
কিন্তু আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি বাজারে কঠোর নজরদারি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এখন দেখার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্বস্তি ফেরে কি না পুঠিয়ার মাঠে।


প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬ | সময়: ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ