সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় জমে উঠেছে ঈদের কেনা-কাটা

নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় জমে উঠেছে ঈদের কেনা-কাটা। ঈদ উপলক্ষে এখানে প্রায় পাঁচশত বছর থেকে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। এজন্য এলাকার মানুষ অন্য জায়গায় চাকরিরত-সহ মেয়ে-জামাই এবং বহিরাগত সকল বয়সী মানুষের উপস্থিত বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে জমে উঠেছে সকল প্রকার কেনা কাটা। এদিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে কাপড়ের দোকানগুলোতে।

এ অঞ্চলের লোকজন জানান, ঈদে পরিবার-সহ প্রিয়জনকে নতুন পোশাক উপহার দিতে ধনী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সকলেই তাদের সাধ্যমত কেনাকাটা করছেন। এবারের ঈদে দেশী-বিদেশী সব ধরনের কাপড়ই বেচা-কেনা হচ্ছে। তবে কেনাকাটায় গিয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এবার সব ধরনের পোশাকের দাম অনেক বেশি। তাই বাজেটের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। তার পরেও সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা সারতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ছয়-সাত রোজার পর থেকে বাঘায় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতান গুলোতে ঈদের কেনাকাটার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, গত তিন দিনে বেড়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলো খোলা থাকছে। সন্ধ্যার পর আলোর ঝলকানিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে বিপণিবিতান গুলো। তবে সারাদিন রোজা রাখার কারণে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যার পর থেকে।

সরেজমিন উপজেলার দু’টি পৌর সভার বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে যে যার সাধ্যমত হরেক রকম পোশাক-সহ জুতা,সেন্ডেল, ব্যাগ, কসমেটিক প্রশাধনী ইত্যাদি কেনা-কাটা করছেন। তবে আনুপাতিক হারে পুর্বের চেয়ে এ বছর ভারতীয় পোশাক কম। কদর বেড়েছে পাকিস্তানী থ্রী পিচ-ডালিয়া, নাশবতী, টিশুকাতান ও রাউন্ড ড্রেসের। এ ছাড়াও দেশী-জমজম, বাটিক,বুট্রিক্স ,সুতি লোন-সহ বিভিন্ন কোম্পানীর কাপড় গ্রাহকদের নজর কেড়েছে-বিশেষ করে সূতি, জর্জেট, জিবশী, লোন, সায়ফান ও ঝিলিক থ্রী-পিচ ও পাঞ্জাবীর দিকে। গ্রাহকরা বলছেন , এসব পোশাকের মধ্যে পাকিস্থানী পোশাকের দাম অনেক বেশি।

এদিকে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানীরাও প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছেন। বাহারি রঙ ও নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রীর বাইরে মাকের্ট ও বিপনী বিতানগুলো সাজিয়েছেন আলোকসজ্জায়। অনেকেই মার্কেটের সামনে বাহারি পোশাক পরিয়ে দাঁড় করে রেখেছেন তরুণ-তরুনীর মিনি কুইন। ক্রেতারা বলছেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে বাঘায় যে সমস্ত পোশাক গ্রাহকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে তার মধ্যে রেশম স্লিক, জামদানি, চিজনী, মনচুরা, স্বপ্ন পুরী, পিংগণ ও বনলতা শাড়ী ও বেডশীট -সহ বিয়ের কাতান,জামদানি এবং শেরআনীর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রী হচ্ছে পিংগণ এবং বনলতা। এই শাড়ী গুলোর দাম ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

ঈদে মার্কেট করতে আসা আমোদপুর গ্রামের নার্গিস আক্তার বলেন, তিনি তার নাতনীর জন্য থ্রীপিচ আর মেয়ের জন্য শাড়ি কিনতে এসেছেন। কিন্তু বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি। অপর একজন ছাতারী গ্রামের কলেজ ছাত্রী খেয়া সরকার জানান, তিনি সেন্ডেল এবং থ্রীপিচ কিনতে এসে ছিলেন। তুলনা মুলক ভাবে অন্য বছরের চেয়ে এবার সব জিনিষের দাম অনেক বেশি।

তবে বাঘার অভিযাত ডায়মন্ড কালেকশন এর পরিচালক শ্রী সুজিত কুমার জানিয়েছেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবার ঢাকায় অনেক কাপড় ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই মামলা খেয়ে পলাতক।নানা কারনে মোকামে দাম বেশী নেওয়ায় তাদেরকেও বেশি দাম ধরতে হচ্ছে।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ | সময়: ৩:২৭ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine