, , ।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়া যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি হয়, তাহারই প্রতিফলন দেখিতে পাওয়া যায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে। পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষণ বঞ্চনা বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালির প্রাণে শক্তি ও সাহস জুগাইয়াছে ৫২-এর জাগরণ। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফার সংগ্রাম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে জনতার রায়, একাত্তরের অসহযোগ এইভাবে ধাপে ধাপে পরিণতি লাভ করে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম।
স্বাধিকারের দাবি রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতার সংগ্রামে। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৫২ সালের আন্দোলন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সূচিত হইলেও ইহার মূলগত চেতনাটি ছিলো আত্মমর্যাদাবোধ ও আপন অধিকার। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালির রক্তে রচিত হয় একুশের যে সোপান, আজ উহা বিশ্বময় সকল ভাষা গোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক হইয়া উঠিয়াছে। জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদান করিয়াছে।