, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা:
দেশে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না অপরাধ প্রবনতা। এখন বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা। এর সাথে রয়েছে কিশোর গ্যাং ও ডাকাত দল । বেড়ে চলেছে অপরাধ। প্রতি সপ্তায় একাধিক খুনের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ছিনতাই ও চুরি ডাকাতি । যার ব্যত্বয় ঘটেছে রাজশাহী বাঘা-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ও রাজধানী ঢাকায়। লোকজন বলছেন, পাঁচ আগষ্টের পর বিভিন্ন স্থানে সি.সি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলার কারনে সম্প্রতি বাসায় হানা দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। সেই সাথে ব্যাংক সাইবার হামলার শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে দফায় দফায় বৈঠক করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এ অবস্থায় গত সোমবার বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) মহাদ্বয় সারাদেশে চলমান বিশেষ অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মতে ইতোমধ্যে অশংখ্য সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পরেও থামছে না অপরাধ প্রবনতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেপুখুরিয়া গ্রামে মোটর সাইকেল থামিয়ে মানিক হোসেন নামে একজন প্রভাষককে বেধড়ক মারপিট-সহ তার পকেটে থাকা নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা , একটি হিরের আংটি, দামি মোবাইল আইফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও একটি ব্যাংক এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে ১৩ জনের নামে থানায় মামলা করেন তিনি ।যাদের একজনও অদ্যবধি গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছেন, আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এরআগে (৯অক্টোবর) রাজশাহীর বাঘায় ছিনতাইকারীর হাত থেকে ঔষধ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসারকে রক্ষা করতে গিয়ে একজন ভ্যান চালক তাদের ছুরির আঘাতে গুরুত্বর আহত হনে। এরপর ভ্যান চালক আসাদ আলীর চিৎকারে ঐ দু’জন ছিনতাইকারীকে আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে বাঘার আড়ানীতে একটি বিয়ে শেষে ট্রেন যোগে রাজশাহী ফেরার পথে নববধুর গহনা-সহ কয়েকটি ব্যাগ ও টাকা ছিনতাই করে রাজহীর কয়েকজন ছিনতাইকারি।
শুধু বাঘা নয়, গত একমাসে রাজশাহীতে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে তিনজন অটো রিকশা চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দামকুড়ার ল’পাড়া ও পবার ভুগরোইল এলাকায় দুজনকে রিকশা ছিনতায় ও হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে চারজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কাটাখালীতে অটোরিকশা চালক আলম হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি তারা ।
পুলিশের ধারনা, হত্যাকাণ্ড গুলো ঘটেছে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে। সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই রাতেই ঘটেছে। পরে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, রাতে অটোরিকশায় যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে চালকদের। আর যাত্রী ওঠার পর সন্দেহ হলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
একই ভাবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এ ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ডাকাতি সহ একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেই টলেছে।লোকজন বলছেন, আমরা আশা করে ছিলাম দেশে নতুন ভাবে সরকার গঠন হওয়ার পর মানুষ নিরাপদে দিন যাপন করবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। একের-পর এক ঘটে চলেছে খুন-আহাজারি আগ্নীকান্ড ও হত্যা-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। এর ফলে সু-শীল সমাজের লোকজন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, এসব অপকর্মের সাথে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে (২৭ অক্টোবর পর্যন্ত) ২ হাজার ৪৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও ডাকাত ২০০ জন , তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ১৬ জন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলায় অভিযুক্ত এক হাজার ১৪০ জন, মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় এক হাজার ১৪৪ জন এবং অবৈধ অস্ত্রধারী ৫৫ জন রয়েছে। তবে শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তদন্তে ফাকায় সবচেয়ে বেশি হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাংক গুলোতে সাইবার আক্রমণের প্রবণতা আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক গুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকারও হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্যাংকগুলোকে ১৭টি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চিঠিতে বলেছেন, দেশে সাইবার সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্সের (বিসিএসআই) নিয়মিত তথ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনায় বাংলাদেশের কিছু ব্যাংকে ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করে বেআইনি ভাবে লেনদেন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় এসব সাইবার অপরাধী প্রতিনিয়ত দেশের সাধারণ মানুষ তথা ব্যাংকের গ্রাহকদের হয়রানি করছে বলেও তথ্য প্রকাশ করছে। এ কারনে বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ।