বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সবুজ ইসলাম: প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এই ঐতিহাসিক ভোটের লড়াই হবে সৌহার্দপূর্ণ উৎসবমুখর পরিবেশে, এমনটাই আশা রাজশাহী বিভাগের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। বুবধার বিকাল চারটার মধ্যে রাজশাহী বিভাগের শতভাগ ভোট কেন্দ্রের নির্বাচনি মালামাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৫ হাজার ৫০৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অংশ নিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২০৩ জন। আর রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন ৩২ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী। প্রায় সব আসনেই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বড় দুই জোট এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।। তবে সর্বশেষ শক্তি উজাড় করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজেদের সামর্থ্যরে সব্বোর্চ প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।
প্রথমদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ভোটাররাও প্রস্তুত। গত সোমবার নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে নির্বাচনি মালামাল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত নজরদারিসহ সব দিক থেকেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ বলে জানিয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশিসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, রাজশাহী বিভাগে ভোট উপলক্ষে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। তার ভিতরে ১০ হাজার সেনাবাহিনী, ৪১২৩ জন বিজিবি, ১৩৭৯৬ জন পুলিশঃ রেঞ্জ পুলিশ, ২৪০৫ জন আরএমপি, ১০০৬ জন র্যাব-৫ ও ১২, ৭ হাজার ২৭৩৬ জন আনসার সদস্য রয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোট কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অপ্রতীকর ঘটনা রোধে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২৩১৮ বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তায় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় প্রস্তুত আছে জানিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড.আ.ন.ম বজলুর রশীদ জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন প্রস্তুত এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তিনি বলেন,“নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
এদিকে ভোটকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও লক্ষ্য করা গেছে উৎসাহ ও প্রত্যাশা। অনেক ভোটারই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রাজশাহী সদর এলাকার ভোটার মোঃ আব্দুল করিম বলেন, “ভোট দেওয়া আমাদের নাগরিক অধিকার। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে ভালো লাগবে। আমরা চাই আমাদের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন হোক।”
পবা উপজেলার নারী ভোটার সালমা খাতুন জানান, “অনেক আশা নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে নিরাপদ মনে হচ্ছে।” প্রথমবার ভোট দিবেন মোঃ রাশেদ আলী, তিনি বলেন, “এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছি। নিজের ভোট নিজে দিতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।” একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ভোটার মোঃ কামাল হোসেন বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হলে যেই জয়ী হোক, আমরা তা মেনে নেব। দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন খুব জরুরি।”
সার্বিকভাবে ভোটারদের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় রাজশাহীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।