বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান বাঘা :
দেশে অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি কৃষক। যারা রাষ্ট পরিচালনায় সরকার গঠনে ভোট দিয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু তারা অনেকেই জানেন না , গণভোট কি ? তাদের কাছে এ বিষয়ে সু-নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই ।
গণভোটের বিষয়ে সরকারী ভাবে নানা প্রচার-প্রচারনা চালানো হলেও এর প্রতীক (হাঁ-না)অক্ষর চেনেন-না গ্রামের অধিকাংশ খেটে খাওয়া নিরক্ষর মানুষ। ফলে তারা এই ভোট নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত রয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হা-না শব্দ দুটি যদি রঙ্গিন কোন বৃত্তের মধ্যে লেখা হতো , তাহলে নিরক্ষর মানুষ গুলো বৃত্তের কালার দেখে জানতে পারতেন কোনটা হা’ আর কোনটা না’ভোট ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বি.বি.এস) এর দেয়া সর্বশেষ তথ্য সমীক্ষা-২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২.১ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ এখনও নিরক্ষর। এই নিরক্ষর ব্যক্তিরা ছবি সম্বলিত বিভিন্ন প্রতীক এর সাথে পরিচিত। তবে পড়া-লেখা না জানার কারনে তারা অক্ষর জ্ঞানহীন । তাহলে কোন শব্দটির পাশে টিক চিহৃ দিবেন এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন সারাদেশের গ্রামাঞ্চল-সহ রাজশাহীর-৬ সীমান্তবর্তী (চারঘাট-বাঘার) উপজেলা মানুষ ।
বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম শুক্রবার সকালে চায়ের দোকানে বসে বলছেন, শুনছি এবার নাকি দুটি ব্যালটে ভোট নিবেন সরকার। এরমধ্যে একটিতে প্রতিক দেয়া থাকবে, আর অন্যটিতে হা-না অক্ষর। আমি তো অক্ষর চিনিনা , তাহলে কি করে ভোট দিবো ? এ সময় তার সাথে সুর মিলিয়ে অনেকে একই মন্তব্য করেন। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন দু’জন ভিক্ষুক। এ প্রতিবেদক তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা গণভোট কি-তা জানেন-না, তাই একটি প্রতীকে ভোটে দিয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে মত প্রকাশ করেন।
এ অঞ্চলের সুশীল সমাজের লোকজন বলছেন, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে অনেকটা বৈরী পরিবেশে। প্রতিটি নাগরিক একসঙ্গে দুটি করে দুই রুমে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন। তবে গণভোটে হ্যাঁ বা না’ জিতলে কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অধিকাংশ ভোটারদের। তাদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা কাজ করছে।
আবার অনেকেই অক্ষর না চেনার কারনে হতাশায় ভুগছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হা-না শব্দ দুটি যদি রঙ্গিন কোন বৃত্তের মধ্যে লেখা হতো তাহলে নিরক্ষর মানুষ গুলো বৃত্ত দেখে হলেও জানতে পারতেন , কোনটা হা আর কোনটা না’ভোট ।
সরেজমিন লক্ষ্য করা গেছে , এবার গণভোটে হ্যাঁ – এর পক্ষে কাজ করছেন খোদ অন্তবর্তী কালিন সরকার। সরকারের সঙ্গে হ্যাঁ-এর পক্ষে মাঠে রয়েছেন জামায়েতে ইসলামী ও এনসিপি-সহ ১১ দলীয় জোট। তারা নিজ প্রতীকের পাশা-পাশি হ্যাঁ’ ব্যালটে ভোট দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে অনেকটা কৌশলী বিএনপি। তারা বিষয়টি নেতাকর্মীদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর গণভোটে না’ এর পক্ষে সরসরি কাজ করছেন জাতীয় পার্টি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজে দলীয় কার্যক্রম নিষিধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের জন্য সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর কেন্দ্রিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটার-সচেতনতার জন্য বিভিন্ন ভিডিও কন্টেট, ফটো কার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো-সহ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছেন। এমনকি বিভিন্ন বে-সরকারি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানেও গণভোটে হ্যা’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এর কারন হিসাবে তাঁরা বলেন, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর। তারা এখন পর্যন্ত জানেনা গণভোটের মার্কা কি ? অনেকেই বলছেন, ২০২৪ সালের একটি জরিপে জানা গেছে, গ্রামে এখনো প্রায় পৌনে ৫ কোটি মানুষ নিরক্ষর। সুতারাং অক্ষর না চেনার কারনে গণভোট নিয়ে তারা যে বিড়ম্বনায় পড়বে-এতে কোন সন্দেহ নাই।
নুরুজ্জামান /শামি