বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফি রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময়য় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোট আসলে হ্যাঁ কিংবা না এর ভোট। বাংলাদেশে ইতঃপূর্বেও বেশ কয়েকবার গণভোট হয়েছিল। তবে এবারের গণভোট সেগুলোর থেকে আলাদা। এবারের গণভোট ভবিষ্যতের দেশ গঠনের জন্য। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবেন যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অনুমতি দেবেন কিনা।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের জনগণকে গণভোটে উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশনা প্রদান করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। জনগণ পরিবর্তন না চাইলে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হতো না। এর আগে বহুবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমরা প্রত্যাশা করেছি পরিবর্তনের। এবার অনেক প্রাণের বিনিময়ে, অনেক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। এর মাধ্যমে সাফল্য অবশ্যই অর্জিত হবে এবং ভবিষ্যতে অগ্রগতির পথ উন্মুক্ত হবে। কাজেই এ সুযোগ যেন আমরা হেলাফেলা না করি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মত নিয়েই বহুমাত্রিক বাংলাদেশ। এখানে মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে আমরা কী রকম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ চাই। জনগণকে জানাতে হবে যে, দেশের চাবি তাদের হাতে। দরজাটা খুললেই সামনে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নদীর স্রোত বিভিন্ন দিকে থাকলেও তা মোহনায় এসে মিলিত হয়। সেই মোহনা হলো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র। এসময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংসদের উচ্চকক্ষ, গণপ্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি, তিনটি পিএসসি গঠন, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদ ইত্যাদি বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাব দেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য মনির হায়দার।
এছাড়াও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক, আরএমপি কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এসময় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভার পাশাপশি গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের অংশ হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এর আগে, সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সম্মেলনটি রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ মন্তব্য করেছেন, গণভোট শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে নেওয়া উচিত। এজন্যই আয়োজন করা হয়েছে গণভোট, এবং নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব এটি সফল করার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও, গণভোট বিষয়ে সব দল একমত। তিনি এটিকে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, মানুষ ভোট দিতে চায়, কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে যদি জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নিয়ে তাদের মতামত দেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার আরও একজন বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান।