বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রির্পোটার: রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, বুদ্ধিজীবী, নিরীহ, নিরস্ত্র ও নিরপরাধ জনগোষ্ঠীর ওপর ১৯৭১ এ চালানো হত্যাযজ্ঞ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বুদ্ধিজীবীদের শুধু নির্মূল করার জন্যই এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়নি, এ জাতি যেন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেই দুরভিসন্ধি থেকে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। রবিবার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে জাতির সূর্যসন্তানরা যারা আমাদের জাতীয় চেতনাবোধ ও বাঙালি জাতিসত্তা জাগ্রত করেছিলেন, সেই বুদ্ধিজীবীদের স্বাধীনতার দুইদিন পূর্বে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজশাহীবাসী একদিক দিয়ে গর্বিত, অন্যদিকে ব্যথিত। বুদ্ধিজীবী তালিকার প্রথম শহিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা। বাংলাদেশের প্রথম শহিদ মিনার রাজশাহী কলেজে নির্মিত হয়েছিল। রাজশাহীবাসী জ্ঞান-গরিমায় ও চিন্তা-চেতনায় বহুকাল থেকেই অগ্রগামী। বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের তাৎপর্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের যে হাজার বছরের ঐতিহ্য তা জাতীয় চেতনায় এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় একক বৈশিষ্ট্যে সব সময় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। আমাদের আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে যাদের রক্তের অবদান আছে তাদেরকে আমরা স্মরণ করছি। তাদেরকে স্মরণ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো দেশমাতৃকার প্রয়োজনে আমারা যেন ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। ২৪-এ দেশের ছাত্র জনতা প্রমাণ করে দিয়েছে বাঙালি জাতি একটি অদম্য জাতি। আমরা কারো কাছে পরাভব মানি না। নবীন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাঙালির ইতিহাস জানতে হবে। বাঙালির ইতিহাস শুধু ৭১ থেকে নয়, প্রায় ৫ হাজার বছরের ইতিহাস। আমার এই মাটিতে সভ্যতা লুকিয়ে আছে। উয়ারি বটেশ্বর থেকে শুরু করে সোনামসজিদ ও গৌড়ের সভ্যতা রয়েছে এখানে। এই সভ্যতা সম্পর্কে জানার মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও নির্মল করতে পারব। এ সময় তিনি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও সুন্দর দেশে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং সভা শেষে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এই দিন যথাযথ মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়েছে।
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এদিন ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদারসহ বিশিষ্ট শিক্ষক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা: ফরিদ উদ্দীন খান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ। সেখানে অন্যদের মধ্যে প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদার, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব, বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আল-আমিন সরকার, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর মাহফুজুর রহমান আখন্দ বক্তব্য রাখেন। ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। আশরাফুল ইসলাম সন্ধি (আইন বিভাগ) ও রাউফু ইসলাম ইতু (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ) অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
দিবসের কর্মসূচিতে আরো ছিল বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও সন্ধ্যা ৬টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে নাটক এবং শহীদুল্লাহ কলা ভবন চত্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি স্মারক, গ্রাফিতি ও পোস্টার প্রদর্শনী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাড়াও ইনস্টিটিউট, বিভাগ, আবাসিক হল ও অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
মহানগর জামায়াত: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রাজশাহী-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধিজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। অথচ মহান বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ই ডিসেম্বর জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। মূলত দেশকে মেধাশুন্য ও পরনির্ভরশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যথাযথ মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে রোববার বিকেলে দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্টে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসাইন।
এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন, স্বাধীনতার ২ দিন পূর্বে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বরের পরও হত্যাকান্ড হয়েছে। তখনতো পাকিস্তানী বাহিনী ছিল না। কোন শক্তি সেই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল? তার জন্য কী পাকিস্তানী বাহিনীকে দায়ি করতে পারি? তার পিছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাও দায়ি থাকতে পারে। এটা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এটা বের করার দায়িত্ব ছিল স্বাধীনতা পরিবর্তী যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের। কিন্তু তারা তা করেননি।
রুয়েট: কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপর সকাল পৌনে ১১টায় শহীদ ছাত্রদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রুয়েট পরিবারসহ দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই দিনে সকাল ১১টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সকল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর ও শাখা প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
জেলা পরিষদ: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) উম্মে ফাতিমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী এ. কে. এম. আনোয়ার হোসেন, প্রধান সহকারী এস. এম. আল মতিন, উপসহকারী প্রকৌশলী আলেফ আলীসহ জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
ওয়াসা: জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজাউল আলম সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ তৌহিদুল রহমান, সচিব সুবর্ণা সাহা,এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম, এস্টেট আফিসার আবুল কালাম আজাদ-সহ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাসিক: শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। পুস্পস্তবক অর্পণকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমেদ আল মঈন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নুর-ই-সাঈদ, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা রকিবুল হক তুহিন সহ রাসিকের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও ওয়ার্ডের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে সোনাদিঘি জামে মসজিদ, নগর ভবন মসজিদ সহ মহানগরীর সকল মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকিব আনজুম চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ফয়জার রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. মো. ফয়জার রহমান। তিনি বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রাক্কালে বাঙালির বিজয় যখন অনিবার্য, তখন রাজাকার, আল-বদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করে বাংলাদেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদের; উদ্দেশ্য ছিল এ দেশকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ এক গভীর বেদনার অধ্যায়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের দেশপ্রেম, পেশাগত নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পবা: দিবসটির সূচনা হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও গম্ভীর। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়।
এসময় উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান। এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভার মাধ্যমে বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ধারণ করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে পবা উপজেলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়।
নিয়ামতপুর: দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ফয়সাল নাহিদ পবিত্র, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, নিয়ামতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনি আহমেদ,সহ-সভাপতি আলমগীর মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নিন্দা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ক্ষেতলাল: উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে সভায় শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও তাঁদের আত্নার মাগফিরাত কামনায় বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন, আজাহার আলী মন্ডল, ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতিরি কো-অর্ডিনেটর আজিজুল হকের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আলী হোসেন শাহ্, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক, প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান, জামায়তী ইসলাম পৌর রাজনৈতিক সচিব এহতেশামুল হক স্বয়ন, উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারী আল আমিন, তরুণ মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহিনুর প্রমুখ।
টাঙ্গাইল: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের নেতৃত্বে একটি শোক র্যালী ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মধুপুর-ধনবাড়ী: যথাযোগ্য মর্যাদায় মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসের প্রারম্ভে মধুপুর আদর্শ মাদ্রাসা সংলগ্ন বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন। আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, যথাযথ মর্যাদায় ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েম ইমরান।
পরে পর্যায়ক্রমে সর্বস্তরের পেশাজীবী লোকজন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপজেলা সভা কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন যারা দেশের তরে জীবন দিয়ে বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করে গেছে তাদেরকে আমাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করাসহ তাদের আদর্শ দেশে বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিজেদের বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়াও তারা বলেন জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তাই আমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে।
পুঠিয়া: উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. লিয়াকত সালমান। এসময় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক শিবু দাস সুমিত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার স্মৃতি রানী সরকার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মিন্নাত আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রবিউল করিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার, পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর দুলাল হোসেন, বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরজুন, পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজ্জাম্মেল হক কাজী, উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজন, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ভোলাহাট: উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুলতান আলী, ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আহারাম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী, তৈমুর হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার রবিউল ইসলাম কবিরাজ, সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) আজমির শেখ, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক ভোলাহাট উপজেলা শাখার সভাপতি এম কোরবান আলী, সাধারণ সম্পাদক বি.এম রুবেল আহমেদসহ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ। আলোচনা সভায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরসহ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন বক্তারা।