সর্বশেষ সংবাদ :

চারঘাট-বাঘায় খেজুর গুড় নিয়ে চলছে প্রতারণা

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট-বাঘায় আখ ও খেজুর গুড়ের চিটা, আটা ও কাপড়ে ব্যবহার করা রংসহ এক ধরনের কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি করা হচ্ছে খেজুরের গুড়। মোবাইলে ভোক্তাদের আকর্ষণ বাড়াতে বলা হচ্ছে এক নম্বর খাটি ও সম্পুর্ণ ভেজাল মুক্ত খেজুর গুড় পেতে এখনই অর্ডার করুন, পৌছে দিবো আপনার দরজায়। এক শ্রেণির অনলাইন ব্যবসায়ী রিতিমত ঐতিহ্যবাহি খেজুর গুড় নিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে চরম ভাবে প্রতারনা করে যাচ্ছেন। এসব ভেজাল গুড় বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বাজার সহ ও দেশের বিভিন্ন হাটবাজার ও বাসা বাড়ীতে। দীর্ঘদিন ধরে চারঘাট-বাঘার বিভিন্ন এলাকায় এমন অবৈধ কর্মযজ্ঞ চললেও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে চরম উদাসীন। ফলে বন্ধ হচ্ছে না এমন কর্মকান্ড।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুড় তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সুগারমিলের পরিত্যক্ত গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিটাগুড়, চিনি, হাজার পাওয়ারের রং ও আটা এবং এক ধরণের ক্যামিকেল। খেজুর গুড় তৈরিতে গাছিরা ব্যবহার করছেন রসের পাশাপাশি চিনি, রং ও আটা। সাধারণত অধিক লাভ এবং ওজন বৃদ্ধির জন্য গুড় উৎপাদনকারীরা এ সব ক্ষতিকর গো-খাদ্য সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন।
ভায়ালক্ষ্মীপুরের ইউনিয়নের বুদিরহাট গ্রাম, ডাকরা ও বাকরা, চারঘাট ইউনিয়নের পরানপুর, গওরা, কাকঁড়ামারী, মেরামতপুর দিড়িপাড়া,রাওথা, নিমপাড়া ইউনিয়নের নন্দনগাছি, কালুহাটি, শলুয়ার জাগিরপাড়া, হলিদাগাছি, মাড়িয়া, বামদিঘী, ইউসুফপুরের বাদুড়িয়া, টাঙ্গন, সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা, খোর্দ্দগোবিন্দপুর, চারঘাট পৌরসভার মোক্তারপুর, মিয়াপুর,বাঘার মীরগঞ্জ, ভানুকর,মনিগ্রাম,হরিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খেজুরের গুড়ের রমরমা বানিজ্য এখন চোখে পড়ার মত। এমন অবৈধ কর্মযজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও নেই কারো মাথা ব্যাথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারঘাট-বাঘার একাধিক গুড় তৈরীর সঙ্গে জড়িতদের ভাষ্য,বর্তমান বাজারে খেজুর গুড়ের অনেক চাহিদা। সেই তুলনায় খেজুর গাছ নেই। এছাড়াও বর্তমান বাজারে খেজুর গড়ের চাইতে চিনির দাম অনেক কম। এক কেজি চিনির দাম ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা। আর খেজুর গুড় হলেই দাম ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি। অনলাইন ব্যবসায়ীরা গাছিদের কাছ থেকে কম দামে এসব খেজুর গুড় কিনে বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে প্রকৃত খেজুর রসের সঙ্গে দেদারছে মিশাচ্ছি চিনি। ফলে আমাদেরও লাভ হচ্ছে অনেক। রসের মধ্যে চিটাগুড়, হাইড্রোজ, রং,এক ধরনের কেমিক্যাল ও চিনি ব্যবহার করে তৈরি করছেন ভেজাল গুড়। এটা এখন বেশীর ভাগ বাড়ীতেই চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাস বলেন, এক শ্রেণির অস্বাধু ব্যবসায়ীরা এমন কর্মকান্ড সারা বাংলাদেশেই করে যাচ্ছে। তাদের ধরতে আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। এগুলো প্রতিরোধের জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ তথ্য নিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ | সময়: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ