ঘরের মাঠে ফের ধবলধোলাইয়ের শঙ্কায় ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক: গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ ভারত যখন ব্যাটিং করছ, তখন সেটাকে মনে হচ্ছে বোলিং পিচ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে স্বাগতিকেরা। ভারতের হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিবীয়রা এই রান তাড়া করে জিতেছিল। ২২ বছরে এর চেয়েও বড় লক্ষ্য বারবার চতুর্থ ইনিংসে দলগুলোর সামনে এসেছিল। কিন্তু কেউই সফল হয়নি। ভারতের সামনে এবার গুয়াহাটিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৫৪৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এভারেস্ট টপকানোর মিশনে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫.৫ ওভারে ২ উইকেটে ২৭ রানে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে ভারত। সাই সুদর্শন ও কুলদীপ যাদব ২ ও ৪ রানে আগামীকাল পঞ্চম দিনে ব্যাটিংয়ে নামবেন। ভারত এবার হারলে গত ১ বছরে দুইবার ঘরের মাঠে টেস্টে ধবলধোলাই হবে। এর আগে ২০২৪ সালে ভারতকে তাদের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে টেস্টে ধবলধোলাই করেছিল নিউজিল্যান্ড।
গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৬ রান করে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে রায়ান রিকেলটনকে (৩৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রবীন্দ্র জাদেজা। উদ্বোধনী জুটিতে রিকেলটন-এইডেন মার্করাম যোগ করেন ৫৯ রান। মুহূর্তেই প্রোটিয়ারা ৩১.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৭ রানে পরিণত হয়। মার্করাম (২৯), টেম্বা বাভুমা (৩) দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর হাল ধরেন ট্রিস্টান স্টাবস। চতুর্থ উইকেটে ১৬২ বলে ১০১ রানের জুটি গড়েন স্টাবস-টনি ডি জর্জি। ৫৯তম ওভারের প্রথম বলে ডি জর্জিকে (৪৯) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন জাদেজা।
পঞ্চম উইকেটে ভিয়ান মুলডারের সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন স্টাবস। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি থেকে স্টাবস যখন ৬ রান দূরে, তখনই তিনি আউট হয়ে যান। ৭৯তম ওভারের তৃতীয় বলে স্টাবসকে (৯৪) রানে বোল্ড করেন জাদেজা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬০ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৮৮ রানের লিডসহ প্রোটিয়াদের স্কোর হয়ে যায় ৫৪৮ রান।
৫৪৯ রানের লক্ষ্যে নেমে ভারত ব্যাট করতে থাকে প্রথাগত টেস্ট মেজাজে। ডিফেন্সিভ মুডে ব্যাটিং করতে গিয়ে স্বাগতিকেরা ২১ রানেই হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট। ১৯ বলে ১৩ রান করা যশস্বী জয়সওয়ালের উইকেট নিয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন। লোকেশ রাহুলকে (৬) বোল্ড করেছেন সায়মন হারমার। ভারত যখন ১৫.৫ ওভারে ২ উইকেটে ২৭ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে, তখন তাদের রানরেট ১.৭০। রাহুল ৬ রান করতে খেলেছেন ৩০ বল। কুলদীপ ও সুদর্শন খেলেছেন ২২ ও ২৫ বল।
ভারত-পাকিস্তানের বিশ্বকাপের
ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি
স্পোর্টস ডেস্ক: এসিসির টুর্নামেন্ট হোক বা বৈশ্বিক আইসিসির, ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রেখে এখন টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা থাকে আয়োজকদের। গেল কয়েক বছর ধরে এর কোনো বত্যয় হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও প্রতিবেশি, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশকে একই গ্রুপে দেখা যাবে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, কলম্বোতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত ও পাকিস্তান গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করতে পারে। তার আগেই বেরিয়ে এলো, ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচের সূচি।
ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকছে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের আসর।
পাকিস্তান নিজেদের সবগুলো ম্যাচ খেলবে কলম্বো কিংবা ক্যান্ডিতে। এমনিতে ফাইনালের ভেন্যু আহমেদাবাদ। তবে পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে কলম্বোতে হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। আগের বিশ্বকাপের মতো এবারও ২০ দল ৪টি গ্রুপে ভাগ হবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল যাবে সুপার এইটে। সেখান থেকে দুই গ্রুপের সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনালে, এরপর ফাইনাল।
প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বার্বাডোসে ফাইনালে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল।
ঢাকায় আজারবাইজান নারী ফুটবল দল
স্পোর্টস ডেস্ক: তিন জাতি আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশ নিতে সকালে ঢাকায় এসেছে আজারবাইজান নারী ফুটবল দল। বুধবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজ।
বাংলাদেশ, আজারবাইজান ও মালয়েশিয়া পরস্পরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এবার প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। ২৯ নভেম্বর খেলবে আজারবাইজান ও মালয়েশিয়া। ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজারবাইজান।
আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এএফসি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজে দিয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে জাতীয় নারী ফুটবল দল। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই স্টেডিয়ামে ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছিল সাবিনারা। আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হবে। ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে আগে কখনো খেলেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। মঙ্গলবার বিকেলে দুই অতিথি দল ম্যাচ ভেন্যু ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে।


প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ | সময়: ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ