বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষকগণের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী-৩ (পবা- মোহনপুর) আসনের এমপিপ্রার্থী অ্যাড. শফিকুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। ১৭ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে। দুর্নীতির কারণে কোনো স্কুল-কলেজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
আগামী প্রজন্মের শিক্ষাঙ্গনকে নতুন চিন্তা ও নতুন স্বপ্নের মাধ্যমে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাঙ্গন হবে নতুন চিন্তা ও নতুন স্বপ্নের। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, আমরা খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করবো, সংস্কৃতিকেও বাধ্যতামূলক করবো। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সম্মিলিত চর্চার মাধ্যমেই সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মিলন বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে নতুন সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ স্বশাসন ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিভাবকদের একটি পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি না হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয় না।
বিষহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: আব্দুস সালাম, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-অর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাজিম উদ্দিন।
মহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম শেখের পরিচালনায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে শিক্ষকগণ প্রধান অতিথির কাছে বিভিন্ন ন্যায্য দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন গণতন্ত্রের পুরোধা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেইসাথে বাংলাদেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। শুধু তাইনয় তিনি যুদ্ধ বিধস্তকে দেশকে পুণর্গঠনে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরমধ্যে কৃষিখাত ছিলো অন্যতম। এরপর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর দলের প্রতিক নিয়েছিলেন ধানের শীষ।
বিএনপির এই প্রতিক বিএনপি প্রতিষ্ঠাকাল হতেই জনগণের মধ্যে ঐক্যের প্রতিক হয়ে আছে বলে রোববার বিকেলে পবার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১দফা বাস্তবায়নের পক্ষে গণসচেতনতা মূলক প্রচারণায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহনের লক্ষে কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সতের বছরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও গণতন্ত্র ধ্বংস করায় সতের বছরে জনগণ একটা ভোটও দিতে পারেনি। সব ভোট প্রদান করেছে শেখ হাসিনা নিজেই। এজন্য তিনি দিনের ভোট আগের রাতে এবং ভোটারশূন্য কেন্দ্রে নিজেরা ভোট দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে শুধু এটাই নয় মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এছাড়াও তার দলীয় লোকজনও কমছিলোনা দুর্নীতিতে। সে সময়ে সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করে দেশটাকে গ্রাস করে ফেলেছিলো।
মিলন বলেন, দেশে ঐ সময়ে সকল অপকর্ম আওয়ামী দোসররা করেছে। এছাড়াও আয়নাঘর বানিয়ে হাজার হাজার মানুষ সেখানে নিয়ে অমানষিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। শুধু তাইনয় মিথ্যা, খুন, গুম ও গায়েবী মামলা দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখতো বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থা যেন আর কোনদিন না আসতে সেজন্য বিএনপি কাজ করছে। বিএনপি ৩১দফা কর্মসূচী দিয়েছেন। এটা বাস্তবায়ন করলে দেশে আর কখনো স্বৈরাচারের উদয় হবেনা।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই দর্শনপাড়াতে অনেক অত্যাচার করেছে রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও পিচ কমিটির সদস্যরা। আর এই সদস্যরা হলেন আজকের জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। যে দল বাংলাদেশ হোক সেটাই চায়নি, সে দল আবার দেশের সেবা করবে কিভাবে? এ বিষয়ে ভাবার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন তিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের ক্ষমতার মূল উৎস। এই ক্ষমতা নিয়ে আসতে হলে নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। এজন্য আগামী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে সকল নেতাকর্মীকে অন্তর্ভূক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে নির্বাচনে কেউ সহিংসতা না করতে পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান মিলন।
মিলন বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ দেশের মানুষের জন্য তিনি সব কিছুই হারিয়েছেন। নিজের ঘর ও সন্তান হারিয়েছেন। আরেক ছেলে দেশের বাহিরে আছেন। এখনো দেশে ফিরতে পারেনি। তিনি যেভাবে দেমেল জন্য সব কিছু উৎসর্গ করেছেন, তেমনি আমি পবা-মোহনপুরবাসীর জন্য আমার সব কিছু উৎসর্গ করলাম বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে আগামী নির্বাচনে তিনি ধানের শথীষে ভোট প্রার্থনা করেন। বক্তব্য শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দর্শনপাড়া ইউনিয়ন মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত কর্মীসভায় ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আয়েজুদ্দিন মেম্বরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন ও আজাদ আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুরর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড।
আরো উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আবুল কালাম সরকার, সভাপতি ইব্রাহিম খান, সাবেক সভাপতি আইনাল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলা বক্স ও কামরুজ্জামান হেনা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, মাহাতাব মেম্বর, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, পবা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে.এইচ রানা শেখ ও দর্শনপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক আকমল হোসেনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।