ঈশ্বরদীতে কথায় কথায় সন্ত্রাসী রাব্বি মালিথার গুলিবর্ষণ, বিক্ষোভ-সমাবেশ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা-ভাংচুর এবং গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার মানিকনগর সরদারপাড়া এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এসময় তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেন।
এলাকাবাসী বিপুল হোসেন মালিথা বলেন, গত ১০ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৫টার দিকে মানিকনগর মাষ্টারের মোড় এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র বাবু মালিথার ছেলে সন্ত্রাসী রাব্বি মালিথার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সরদারপাড়ার আব্দুল মান্নান সরদারের দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে। এরপর হামলাকারীরা ইয়ার আলীর বাড়িতে হামলা করে টিভিসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করে। এই মিছিল রাব্বী মালিথার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রাব্বী মালিথা মিছিল লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে এলাকাজুড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়। এসময় এলাকাবাসী রাব্বীর বাড়ি ঘেরাও করে রাব্বির বাবা বাবু মালিথাকে মারপিট করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাব্বি মালিথা নিজ বাড়ি ঘরের বেড়া ভাংচুর করে এবং আগুন জ্বালিয়ে তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী কোহিনুর খাতুন বলেন, মানিকনগর মাস্টারের মোড় এলাকার বাবু মালিথার ছেলে রাব্বি, রাজিব, সজিব, শফিকুল, জিম, রশিদ মালিথার ছেলে কালাম, আলম ও বুদুসহ একদল সন্ত্রাসী মানিকনগর এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা দোকানে বাকি খেয়ে টাকা দেয় না। টাকা চাইলে দোকানদার মারধর ও দোকান ভাংচুর করে। আমি পাওনা টাকা চাওয়ায় আমার দোকান ভাংচুর করে।
এলাকাবাসী শাহীন হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য শনিবার ভোর ৫টার দিকে মাংস কিনতে যাওয়ার পথে রাব্বি আমার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একই এলাকার মোক্তার হোসেন বলেন, রাব্বি আমার বুকেও পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছে। সে চাঁদা না দিলেই হুমকি ধামকি ও পিস্তল বের ফাঁকা গুলি করে আতংকের সৃষ্টি করে। সে এমন কোন অন্যায় নাই যে করে না। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয় না।
ফারুক হোসেন নামে আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, রাব্বি ও তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা কথায় কথায় অস্ত্রের ভয় দেখায়। ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতংকের সৃষ্টি করে। তারা কাউকে মানে না। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল্লেক ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে মারধর ও বাড়িঘর ভাংচুর করেছিল রাব্বি মালিথা গং। তারা বেপরোয়া ও অপ্রতিরোধ্য। কাউকে মানে না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাব্বি মালিথার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ভাই রাজিব মালিথা বলেন, এলাকার লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে করেছে এবং আমার বাবাকে মারধর করে আহত করেছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম আব্দুর নূর জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২৫ | সময়: ২:২৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ