বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ; তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।
এই হিসাবে ২০২৪ সালের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বোর্ড চেয়ারম্যানরা নিজেদের অফিসে বসে ফল প্রকাশ করেন। বরাবরের মতই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএস করেও উচ্চমাধ্যমিকের ফল জানা যাচ্ছে।
কোভিড মহামারীর পর ২০২৩ সালে প্রথমবার পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার পর বাকিগুলো আর নেওয়া সম্ভব হয়নি ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং সরকার পতনের পরের ঘটনাপ্রবাহের কারণে। ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা কোভিড মহামারী আর বন্যার কারণে বিলম্বিত হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হওয়া সেই পরীক্ষায় ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন।
মহামারীর কারণে বিলম্বিত হয়েছিল ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও। কম বিষয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ; ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন পায় জিপিএ-৫। আর ২০২০ সালে মহামারীর কারণে পরীক্ষা হয়নি। জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নে সবাই পাস করে, জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। মহামারী শুরুর আগে ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সার্বিকভাবে পাস করে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মোট ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী পাঁচে পাঁচ জিপিএ পায়।
২০২০ সালে পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশের অভিজ্ঞতা ২০২৪ সালে আংশিক কাজে লাগে। যে কটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে সেগুলোর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এসএসসির নম্বর বিবেচনায় নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে করা হয় মূল্যায়ন। খাতায় ‘গ্রেস মার্ক’ না দেওয়া হলে এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ও জিপিএ ৫ যে এবার কিছুটা কমতে পারে, সে আভাস আগেই দিয়েছিলেন দীর্ঘ দিন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করা সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা।
বর্তমানে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ইংরেজি বিভাগে কর্মরত থাকায় গত কয়েক বছর ধরে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বুধবার রাতে তিনি বলেছিলেন, “গ্রেস মার্ক দেওয়ার কালচারটা শুরু থেকেই ছিল, এটা আসলে পরীক্ষকদের মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। অনেক পরীক্ষক অনেকটা মায়া করেই ৩২ বা ৩১ পাওয়া পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দিতেন। “আমি যখন পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি, তখন কয়েকবার দেখেছি এ বিষয়ে পরীক্ষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে কখনও তা আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হত না।
তিনি বলেন, “এখন বোর্ড থেকে যদি গ্রেস মার্ক না দিতে বলা হয়, তার প্রভাব জিপিএ ৫ কিংবা পাসের হারে প্রতিফলিত হওয়াটা অস্বাভাবিক না।” গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্ধারিত দিন সকালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সারতেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলের প্রতিবেদন তুলে দিতেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন ওই অনুষ্ঠানে।
সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকতা সারার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট ও মোবাইলে ফল জানার সুযোগ মিলত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের বিস্তারিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফল প্রকাশের সেসব আনুষ্ঠানিকতা রাখা হচ্ছে না। সকালে ঢাকা বোর্ডে সংবাদ সম্মেলন করে সব বোর্ডের সার্বিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।