বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
মানুষ আজীবন বাঁচেনা। বৃক্ষ মরে গেলে পাতা ঝরে ,আর মানুষ মরে গেলে পচে যায়। মৃত্যুর পর দেহ মিশে মাটিতে। তবু কিছু মানুষকে হারাতে মন চাইনা। তার পরেও মানুষ হারিয়ে যায়। তবে রেখে যায় কিছু স্মৃতি। তাঁদেরই একজন মাটির গন্ধ মাখা মাষ্টার মশাই অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। তিনি আজ থেকে দুই বছর পূর্বে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসের দিন সকাল ৮ টা ২০ মিনিটে এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান না ফেরের দেশে। মৃত্যুকালে গুনি এই শিক্ষকের বয়স হয়ে ছিল ৮৫ বছর ।
আজ (৫-অক্টোবর) বিকেলে তাঁর আত্নার মাগফিরাত কামনা করে বাঘার সরের হাট এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাস্থলের চারপাশ দিয়ে স্যারের ছবি সম্মিলিত বেশ কিছু ফেস্টুন দেয়া ছিল। এর আগে গত বছর অধ্যাপক নুরুল ইসলাম স্মরণে তাঁর বড় ছেলে বিশিষ্ট নাট্যকার শিমুল সরকারের সম্পাদনায় একটি স্মরণিকার প্রকাশিত হয়েছিল। যা সর্ব মহলকে অনুপ্রনিত করেছিল। মরহুমের বাসভবন প্রাঙ্গণে এই স্মরণ সভার আয়োজন করেন তার পরিবার। যারা স্মরণ সভায় অংশ গ্রহন করেন তারা সবাই স্যারের প্রিয় মানুষ এবং সুনামধন্য শিক্ষার্থী । যাদের অনেকেই দেশের উন্নয়নে সরকারী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া যে আমাদের হৃদয়ে কতটা ক্ষত তৈরি করেছে তা আর কখনো পুরণ হবার নয়। স্যারের চলে যাওয়া আমাদের অনেক বেশি পোড়ায়। কারণ তিনি খুব আশাবাদী মানুষ ছিলেন। কেউ পথ হারালে পথের সন্ধান চাইলে তাকে পথের সন্ধান দিতেন। খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতেন। তার চিন্তায় থাকতো সবাইকে সচেতন করে সমাজের প্রতি ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করানো।
তিনি বলতেন, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কাজ শুরু করতে হবে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে। যারা সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে, তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়ন সম্ভব। স্যারের স্বপ্ন ছিলো ,এই দেশটা একদিন সোনার বাংলায় পরিনত হবে। তাঁর সকল শিক্ষার্থীরা স্যারকে আদর্শ শিক্ষক হিসাবে সম্মান করেন। আবার অনেকেই তাঁকে ইংরেজীর একজন পন্ডিত মশায় হিসাবে খেতাব দিয়েছেন।
এ দিকে স্যারের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত শাহদৌলা সরকারি কলেজটি, সরকারি করণের আগে ১৯৭৮ সালে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে প্রয়াত নুরুল ইসলাম স্যার যোগদান করেন। এরপর ২০১২ সালে সম্মানের সাথে তিনি অবসরগ্রহণ করেন।